পার্কের ঘাসে জীবন চলে রাজ্জাকের

বোরহান উদ্দিন
| আপডেট : ১৩ মে ২০১৯, ১৭:১০ | প্রকাশিত : ১৩ মে ২০১৯, ১৬:২৭

বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাপদাহের কারণে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। এই তীব্র রোদের মধ্যে মাথায় গামছা দিয়ে অনবরত ঘাস কেটে যাচ্ছেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। সোমবার ঠিক দ্বিপ্রহরে রমনা পার্কের ফুল বাগানের পাশের কাঁটাতারের বেড়া ঘেষে ঘাস কাটছিলেন তিনি। দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল ঘামে ভিজে গেছে তার পুরো শরীর। তাতেও থেমে নেই তার হাতের কাঁচি।

লোকটি যেখানে রোদে পুড়ে ঘাস কাটছিলেন, ঠিক তার পাশেই ক্লান্তি কাটাতে গাছের নীচে বেঞ্চিতে শুয়ে বসেছিলেন অনেকে। কাছে গিয়ে কথা বলে জানা যায়, লোকটির নাম আব্দুর রাজ্জাক। গ্রামের বাড়ি টঙ্গীর গাজীপুরায়। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক রাজ্জাক ঘাস কাটার সঙ্গে জড়িত আছেন প্রায় এক যুগ ধরে।

বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, সকাল থেকে শুরু করে সাধারণত দুপুর পর্যন্ত তিনি ঘাস কাটেন। রাজ্জাকের সঙ্গে আরও একজন আছেন। দিনে ১০ থেকে ১২ বস্তা ঘাস কাটতে পারেন তারা। পরে এগুলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের পাশের ফুটপাতে বিক্রি করেন।

আকারভেদে প্রতি বস্তা ঘাস একশ থেকে দুইশ টাকায় বিক্রি করেন আব্দুর রাজ্জাক। বলেন, গরু-ছাগলের খামারিরা অনেকে তাদের কাছ থেকে ঘাস কিনে নেন। বঙ্গবাজার এলাকায় ঘোড়ার গাড়ির মালিকরাও ঘোড়ার জন্য তাদের কাছ থেকে ঘাস কিনতে আসেন। তবে অনেককে আবার বাসায় বা খামারে ঘাস পৌঁছে দিতে হয়।

সাধারণত রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, কার্জন হলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গা থেকে ঘাস কেটে থাকেন রাজ্জাকরা। তবে লালবাগ কেল্লায় ঘাস কাটতে গেলে ফেরত আসতে হয়েছে বলে তিনি জানান। কারণ সেখানে মেশিন দিয়ে ঘাস কাটা হয় বলে তাদের সুযোগ নেই।

নিজের কর্মজীবন নিয়ে কষ্টের মধ্যে সুখ খুঁজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক। বলেন, ঘাস কাটায় অনেক কষ্ট। গরমে তো আরও কষ্ট। সকালে কাঁচি ধরি, সারাদিন চলে। হাত শক্ত হয়ে যায়। ব্যথা করে। এরপরও শান্তি। ভেজাল নাই।

তিনি বলেন, ‘আমগো টাকা ছলিট। ঘাস কাটায় তো চুরি নাই। এই জন্য শান্তিতে আছি।’

ছেলে চতুর্থ ও মেয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাচ্চাদের লইয়া ওর মা গাজীপুরা থাহে। আমি সপ্তাহে একদিন যাই। ট্যাকা পয়সা বিকাশে পাঠাই। নিজে যাওয়ার সময় লইয়া যাই। ডেইলি হাজার খানেক ট্যাকা রাখতে পারি সব বাদ দিয়ে।’

সন্তানদের শিক্ষিত করে তুলতে আজীবন চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘জীবন যতদিন আছে ওদের পড়ালেখা করামু। আর যদি আল্লাহ নিয়ে যায় তাইলে তো পারুম না।’

সারাদিন পরিশ্রম শেষে কার্জন হল এলাকাতেই রাত্রিযাপন করেন বলে জানান তিনি। বিদায় বেলায় প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে পেরে তিনি বলেন, ‘আগেও সাংবাদিকরা আমার ছবি তুলছে। সেই পেপার আবার এলাকায় গেছে। গ্রামের লোক ফোন দিয়ে কয়, তোদের তো পেপারে দেখলাম।’ বলেই তৃপ্তির হাসি দিয়ে বিদায় দিলেন আব্দুর রাজ্জাক।

(ঢাকাটাইমস/১৩মে/বিইউ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :