জবি ভিসির বক্তব্য সমাজ পচনের উদাহরণ: মোশাররফ

যুবলীগ সভাপতির পদ পেলে নিজের পদ ছেড়ে দেবেন বলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভিসি অধ্যাপক মীজানুর রহমানের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গণমাধ্যমে এমন খবর পড়ে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ‘এটা সমাজ পচনের অন্যতম উদাহরণ।’
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জিয়া মুক্তি পরিষদ’ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মোশাররফ বলেন, ‘পত্রিকায় দেখলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর মীজানুর রহমান ঘোষণা করেছেন, যদি যুবলীগের দায়িত্ব তাকে দেওয়া হয় তাহলে তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন! ধিক, লজ্জা। সমাজ কোথায় গেয়েছে।’
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শোতে ভিসি মিজানুর রহমান বলেছেন, নানা কারণে সমালোচনায় থাকা যুবলীগের ভাবমূর্তি ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী চাইলে যুবলীগ সভাপতির পদ নিতে রাজি তিনি। এজন্য তিনি ভিসি পদ ছেড়ে দেয়ারও কথা জানান।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। পড়াকালীন আমি হলের ভিপি ছিলাম। তারপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা শুরু করি। বিভাগীয় চেয়ারম্যানও হয়েছি। ছাত্রজীবন থেকে শিক্ষকতা জীবন পর্যন্ত অনেক ভিসি দেখেছি। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সংগঠনের সভাপতির পদ দেওয়া হলে ভিসি পদ ছেড়ে দেবেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এমন কথা বলতে পারেন? এটা সমাজ পচনের অনত্যম উদাহরণ।’
যুবলীগ নেতাদের ক্যাসিনো, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যে ভাইস চ্যান্সেলর এই ধরনের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের শাসন করবেন তার চোখ রাঙানিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকম্পিত থাকবে- সে যুবলীগের দায়িত্ব পেতে চান! কী জন্য? কারণ যুবলীগের দায়িত্বে গেলে ক্যাসিনো চালানো যায়। যুবলীগের দায়িত্বে গেলে টেন্ডার...। চিন্তা করেন, একজন ভাইস চ্যান্সেলরের লক্ষ্য কী হয়ে গেছে। যদি যুবলীগের প্রেসিডেন্ট হতে পারে তাহলে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ব্যবস্থা আছে। ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে হয়তো সেটা নাই।’
মোশাররফ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্রলীগ নেতাদের এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ঈদ বকশিস দিয়েছেন। তার কাছে কি টাকা তৈরির মেশিন আছে, নাকি গাছ আছে? বিষয়টি আরও দুর্ভাগ্যজনক।’
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে জনগণের সরকার থাকলে ভারতের সঙ্গে এভাবে চুক্তি করতে পারতো না। দুর্বল সরকার বলে তারা চুক্তি করেছে। ভারতের সঙ্গে আমরা সুসম্পর্ক, ভাই-ভাই হিসেবে পাশপাশি থাকতে এবং সমতার সম্পর্ক চাই। এটাই আমাদের পররাষ্ট্র নীতি। তিস্তা চুক্তি নিয়ে কোনো সমাধান নেই, অভিন্ন ৫৪ নদীতে ভারত বাঁধ দিয়েছে সে নিয়ে কথা হয়নি, ফেনী আমাদের নদী সেটার পানি মানবিক কারণে ভারতকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। অথচ এই চুক্তির আগেই ভারত ফেনী নদীতে ৩৫টি পাম্পের মাধ্যমে অবৈধভাবে পানি নিচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার জামিন প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, ‘জামিন তার প্রাপ্য অধিকার। কিন্তু তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের অনেকে বলেছেন, আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারছেন না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে তাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। ’
(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/বিইউ/জেবি)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































