মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল, শেয়ারবাজারে ধস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩১
অ- অ+

মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আজ সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে ধস নেমেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ডলার ও স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৬.০৭ ডলারে পৌঁছেছে (একপর্যায়ে ৮২ ডলার ছাড়ায়)। একই সময়ে মার্কিন ক্রুডের দাম ৩.৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯.৫৯ ডলারে। স্বর্ণের দামও ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩২৭ ডলারে উঠেছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা এবং এর জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংঘাত আরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিশ্ববাজারের নজর এখন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী–এর দিকে। কারণ এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পথটি বন্ধ না হলেও নিরাপত্তা শঙ্কা, বীমা জটিলতা এবং সামরিক উত্তেজনার কারণে জাহাজ চলাচল কার্যত ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক জর্জ লিওনের মতে, প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। দ্রুত উত্তেজনা না কমলে তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী পুনর্মূল্যায়নের আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক প্লাস এপ্রিল মাসের জন্য প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেই তেল নিরাপদে রপ্তানি করা যাবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ১৯৭০–এর দশকের তেল নিষেধাজ্ঞার সময়কার পরিস্থিতির তুলনা করছেন, যখন তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছিল।

তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪ শতাংশ কমেছে, যেখানে এয়ারলাইন্স খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের সিএসআই ৩০০ সূচক তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ঊর্ধ্বমুখী থাকলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়তে পারে এবং এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/২ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা