তীরে এসে তরী ডুবল টাইগারদের

জয়ের দুয়ারে দাঁড়িয়েও শেষ পর্যন্ত পারল না বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে ম্যাচে নাটকীয়ভাবে ফিরে এসেও শেষ ওভারে হারের হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে স্বাগতিকদের। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
তবে ম্যাচ হারলেও সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
জয়ের জন্য ২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একসময় দাপটের সঙ্গেই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ৪৫ ওভার শেষে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। ওপেনার কুপার কোনোলি তখন ১৪৯ রানে অপরাজিত। ম্যাচটি তখন অস্ট্রেলিয়ার মুঠোয় বলেই মনে হচ্ছিল।
কিন্তু সেখান থেকেই নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৪৬তম ওভারে এসে জোড়া আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। এরপর নিজের পরের ওভারেও আরেকটি উইকেট তুলে নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সমীকরণ যত সহজ হচ্ছিল, বাংলাদেশের বোলাররা ততই ম্যাচে উত্তেজনা ফিরিয়ে আনছিলেন।
৪৯তম ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান আরও বড় ধাক্কা দেন। ব্যক্তিগত ১৪৯ রানে থাকা কোনোলিকে বোল্ড করে ম্যাচে নতুন সমীকরণ তৈরি করেন তিনি। ২৬৬ রান থেকে ২৭১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৩ রান। বল হাতে দায়িত্ব নেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম দুই বলে মাত্র ১ রান দেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় বলে অ্যাডাম জাম্পা বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন।
এর আগে বাংলাদেশের দেওয়া ২৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই দুই উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সেখান থেকে কুপার কোনোলির অসাধারণ ব্যাটিং দলকে জয়ের পথে নিয়ে যায়। নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। শেষ পর্যন্ত ১৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার। এছাড়া একটি করে উইকেট পান মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ৬১ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা।
সেখান থেকে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ৯২ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরায়। হৃদয় ৮৩ রান করেন। চোটে পড়ে মাঠ ছাড়লেও পরে ফিরে এসে অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
মোসাদ্দেক হোসেনও খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের ব্যাটে ভর করে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭৪ রান তোলে বাংলাদেশ।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সংগ্রহ জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শরিফুল-মোস্তাফিজের দুর্দান্ত লড়াইও বাংলাদেশের হার ঠেকাতে পারেনি। তীরে এসে তরী ডুবেছে টাইগারদের।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































