যে প্রযুক্তি ধরিয়ে দিল বেনজীর আহমেদকে

বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তির মাধ্যমেই সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের পরিচয় শনাক্ত হয়ে তাকে আটক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকায় এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার পর ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত সক্রিয় হয় এবং পরে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
সূত্রের দাবি, লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করছিলেন বেনজীর আহমেদ। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে তার মুখমণ্ডল এআইভিত্তিক স্ক্যানিং সিস্টেমে ধরা পড়ে। পরে সেই তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে ইন্টারপোলের নোটিশ সক্রিয় হয়।
এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে বেনজীর আহমেদকে নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। আইন অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিলের সময়সীমা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট আইনের একাধিক ধারায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং সেই নথির ভিত্তিতেই এক্সট্রাডিশন প্রক্রিয়া এগোচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
দুবাই পুলিশের বরাতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি তিনি (বেনজীর) লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি।
পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের এআই ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































