ভারতকে শুধু দিয়েই যাচ্ছি এটা ডাহা মিথ্যা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ২১:২৯

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শুধু দিয়েই যাচ্ছে এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন। এই অভিযোগকে ডাহা মিথ্যা আখ্যায়িত করে বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু দিয়েই যাচ্ছে না, পাচ্ছেও। দুই দেশের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই বড় অর্জন বলে মনে করেন সাবেক এই কূটনীতিক।

জার্মানভিত্তিক বার্তা সংস্থা ডয়চে ভেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শনিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় জার্মানির রাজধানী বার্লিনে ডয়চে ভেলের কার্যালয়ে মন্ত্রী এই সাক্ষাৎকার দেন। বাংলা বিভাগের প্রধান খালেদ মহিউদ্দীন সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন।

অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী চারটি ইউরোপিয়ান দেশ- জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি এবং গ্রিসে দুই সপ্তাহের সফরে রয়েছেন। বর্তমানে তিনি জার্মানে রয়েছেন।

ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রীর সম্প্রতি ভারত সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দুই দেশের উষ্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা। এবং তা এই সফরে অর্জন হয়েছে।’

মোমেন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাদের মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক আমরা আবার দাঁড় করিয়েছি। উনিও নতুনভাবে জয়লাভ করেছেন এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জয়লাভ করেছেন, (এরপর) এটা প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।’

‘বিভিন্ন ধরনের সমঝোতা হয়েছে। এগুলো হবে তা আমরা আশা করেছি, কিন্তু আসল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে টু ডেভেলাপ দিস ওয়ার্ম রিলেশনশিপ।’

‘মানবিকতার জন্যই বাংলাদেশ ফেনী নদীর পানি দিচ্ছে’

ফেনী নদীর পানি প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, ‘ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৫৪টি অভিন্ন নদী আছে। এর মধ্যে বড় নদী সাতটি। তিস্তা নদীর বিষয় ভারত স্বীকার করেছে বণ্টন হবে। কিছু সমস্যা থাকায় তারা ২০১১ সালের সেই ওয়াদা রাখতে পারেনি। ফেনীতে যে পানি দেয়া হচ্ছে তা খুবই সামান্য। ১২৬ কিউসেকের মধ্যে ১ দশমিক ৮২ কিউসেক ১ ভাগেরও কম। মানবিকতার জন্যই বাংলাদেশ এই পানি দিচ্ছে।’

‘তারা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পাম্প নিয়ে পানি উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এমনকি অধিক পানি নিয়ে যাচ্ছিল। এখন একটা কাঠামো তৈরি হয়েছে। (যার কারণে) তারা দায়বদ্ধ হয়েছে। তারা কিন্তু এখন ১ দশমিক ৮২ কিউসেকের বেশি নিতে পারবে না।’ এর মাধ্যমে ভারতকে বাংলাদেশ একটি দায়বদ্ধতার মধ্যে ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন মোমন।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিস্তার পানি চুক্তি না হওয়ায় ট্রানজিট প্রস্তাবে সায় দেয়নি বাংলাদেশ, বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল ইলিশ রপ্তানি। প্রধানমন্ত্রী সেই কূটনৈতিক অবস্থান থেকে  সরে এসেছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কাউকে খুশি করার জন্য কিছু করেন না। ইলিশের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে সেজন্যই দুর্গাপূজার সময় ভারতে ইলিশ পাঠানো হয়েছে।’

২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার একবছর পর ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম ভারত সফরে যান। সে সময় ১০০ কোটি ডলারের এলওসি বা ঋণরেখা অনুমোদন করে ভারত। এই অর্থে জনপরিবহন, সড়ক, রেলপথ সেতু আর অভ্যন্তরীণ নৌপথের ১৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের চুক্তি হয়।’

‘এনআরসি নিয়ে ভারতের আশ্বাসে বিশ্বাস করতে চাই’

আসামের নাগরিকপঞ্জির প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসামের নাগরিকপঞ্জির প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না। এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সফরে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।’

‘আমরা বলেছি, ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ে আমরা খুব কষ্টে আছি। আমরা আর নতুন উদ্বাস্তু চাই না। তারা বলেছে যেগুলো আলোচনা হয়েছে সেগুলো একান্ত আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়। এটা নিয়ে আপনাদের কোনো ধরনের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। এটার প্রভাব আপনাদের ওপর পড়বে না। আমরা এটা বিশ্বাস করতে চাই।’

১৯৮৫ সালে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় তারা নাগরিকত্ব যাচাই বাছাই করবে, তখন যারা সরকারে ছিল তারা এ নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি বলেও মন্তব্য করেন মোমেন।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে উপকূলে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যার অধীনে ভারত বাংলাদেশের উপকূলে যৌথভাবে রাডার স্থাপন করতে পারবে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছ।

এর ফলে চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক খারাপ হবে কি না এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীন থেকে সাবমেরিন কিনেছিলাম। তখন ভারত যদি সাবমেরিন দিত আমরা ভারত থেকেও কিনতাম। ভারত তখন সাবমেরিন দিতে পারেনি, আমরা তাই চীন থেকে কিনেছি।’

রাডারের যে সমঝোতা হয়েছে তার ভিত্তিতে কী করা হবে সে বিষয় এখনো নির্ধারণ হয়নি বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মোমেন বলেন, ‘একটি প্রিন্সিপাল আমরা গ্রহণ করেছি যে, আমাদের অংশগুলো (সমুদ্রসীমা) আমরা দেখভাল করব। প্রতিবেশী ভারতের সাথেও জায়গাগুলোর সম্পৃক্ততা আছে সমুদ্রের। একসাথে যৌথভাবে আমরা জায়গাগুলো দেখভালের জন্যেই এই সমঝোতা।’

(ঢাকাটাইমস/১৯অক্টোবর/এনআই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :