সাতক্ষীরায় বয়স কম দেখিয়ে চাকরির অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, ঢকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর ২০২০, ১৭:০৩

বয়স কম দেখিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আশাশুনির কুন্দুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির সনদপত্র নিয়েও রয়েছে জালিয়াতির অভিযোগ।

কাগজে বয়স কমানোর ফলে সে অনুযায়ী পিতার মৃত্যুর ১২ বছর পর অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ সরকারের জন্ম হয়েছে। যা নিয়ে এলাকায় প্রশ্ন ওঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে নিজের ছোট ভাইয়ের চেয়েও বয়স কম দেখানো হয়েছে তার।

অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের কুন্দুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় বুধহাটা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মমতাজ বেগমসহ এলাকাবাসী তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা এ দাবিতে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী জানান, শিবপ্রসাদ গত ২০১৩ সালের ২৮ মার্চ কুন্দুড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে নিয়োগ পান। কিন্তু তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স কমিয়ে উক্ত পদে চাকরি পেয়েছেন। এমনকি ছোট ভাই উত্তম কুমার সরকারের বয়সেরও কম দেখানো হয়েছে তার বয়স।

জানা গেছে, শিবপ্রসাদ সরকার তিন ভাইবোনের মধ্যে মেঝ এবং উত্তম ছোট। শিবপ্রসাদের বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮৩ সালে। অথচ তার পিতা মারা যান ১৯৭১ সালে। যার সাক্ষী এলাকার বয়োবৃদ্ধরা। পিতার মৃত্যুর ১২ বছর পর কিভাবে তার জন্ম হলো এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। শিবপ্রসাদ এপর্যন্ত প্রায় তিনবার তার জাতীয়পরিচয়পত্র পরিবর্তন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের জন্ম নিবন্ধন ভলিউম বইয়ে দেখা গেছে শিবপ্রসাদের নামে জায়গায় ফ্লুট মেরে কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। যদিও সে সময় নাকি শিবপ্রসাদের ভাগ্নে রবীন্দ্রনাথ ইউনিয়নের জন্ম নিবন্ধনের তালিকা প্রস্তুতের দায়িত্বে ছিলেন।

এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলা সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সেলিম বলেন, ‘আমরা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছি। কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

বুধহাটা ইউপি চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমি শুনেছি অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ চাকরি পাওয়ার জন্য তার ভাগ্নে রবীন্দ্রনাথের সহযোগিতায় ভোটার আইডিকার্ড একাধিকবার পরিবর্তন করেছেন। বয়স কমানোর ফলে কাগজপত্রে বড় ভাই হয়েছেন ছোট, আর ছোট ভাই হয়েছেন বড়।’

এদিকে শিবপ্রসাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছোট আর উত্তম কুমার আমার বড় ভাই। আমি কোন জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করিনি এবং আমার পিতা ১৯৮৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।’

তবে জাতীয় পরিচয়পত্র একবার পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রথমবার অষ্টম শ্রেণির সনদপত্রের সঙ্গে বয়সের মিল না থাকায় ২০১১ সালে পরিবর্তন করেছিলাম।

পি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত শিবপ্রসাদ ড্রাইভিং লাইন্সের জন্য অষ্টম শ্রেণির একটি সনদ চাইলে আমি পূর্বের প্রধান শিক্ষককের রেজিস্ট্রার খাতা দেখে তাকে সনদপত্র দিই। আমি সে সময় বুঝতেও পারিনি যে, শিবপ্রসাদ এধরনের কাজে সনদটি ব্যবহার করবে।’

সংরক্ষিত ইউপি সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, ‘এলাকাবাসী সকলেই জানেন। শিবপ্রসাদ বড় আর উত্তম ছোট। কিন্তু ২০১৩ সালে ভাগ্নে রবীন্দ্রের মাধ্যমে জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স কমিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন তিনি।’

কুন্দুড়িয়া গ্রামের ৮৬ বছর বয়সী বৃদ্ধ মোসলেম সরদার বলেন, ‘আমরা জানি শিবপ্রসাদের পিতা সুধাংশু সরকার ১৯৭১ সালে মারা যান। তখন আমার বয়স প্রায় ২৫ বছর।’

একই গ্রামের বয়োবৃদ্ধ গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘শিবপ্রসাদের পিতা সুধাংশু সরকার ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে মারা যান। সে সময় আমি একপুত্র সন্তানের জনক ছিলাম। আমাদের সামনে তার তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। এর মধ্যে মেয়েটা বড়। আর দুই ভাইয়ের মধ্যে শিবপ্রসাদ বড় এবং উত্তম ছোট। সে সময় আমরা শিবপ্রসাদকে ফটিক নামে ডাকতাম।’

(ঢাকাটাইমস/১৮নভেম্বর/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :