‘ইফতারে একটু ভিড় হয়, এগুলো না লিখলে চলে না!’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১৮:০১

করোনার সংক্রমণ রোধে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে সর্বাত্মক লকডাউন। সকালের দিকে রাস্তায় লোকজনের চলাচল কম থাকলেও বিকালে বেড়েছে জনসমাগম। প্রথম রোজা হওয়ায় ইফতারের জন্য দোকানে ভিড় করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই ইফতার আর ফলের দোকানগুলো। বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ফুটপাতে অস্থায়ীভাবে বসানো ইফতার সামগ্রী বিক্রির দোকানে উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে৷ একে অন্যের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইফতার সামগ্রী কিনছেন। আবার গণমাধ্যম কর্মীরা এমন দৃশ্যের ছবি তুললে চটে যাচ্ছেন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই।

বুধবার বিকালে রাজধানীর মিরপুর, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

মিরপুর ১, ৬ ও ১০ নম্বর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় প্রায় প্রতিটি খাবার হোটেলের সামনে বসানো হয়েছে ইফতার সামগ্রীর দোকান। নানান রকম চপের পাশাপাশি প্রতিবারের মতো বিক্রি হচ্ছে হালিম, মাঠা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদ। ইফতারে এসব খাবার রাখতে দোকানগুলোতে ভিড় করেছেন খদ্দেররা।

মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ, শ্যামলী, নবোদয় হাউজিং এলাকা ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। মোহাম্মদীয়া হাউজিং সোসাইটির আল আমিনের হোটেলের সামনে দেখা গেছে ইফতার সামগ্রী কেনার বাড়তি ভিড়। ক্রেতারা একে অন্যের সঙ্গে এক রকম ধাক্কাধাক্কি করেই ইফতার কিনছেন। এমন অবস্থার ছবি তুললে চটে যান একজন ক্রেতা। এই প্রতিবেদককে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, 'আপনাদের জন্য ইফতারও কিনতে পারব না?' অপর এক ক্রেতা প্রতিবেদকের পরিচয় জানতে চেয়ে বলেন, 'ইফতারের দোকানে একটু ভিড় হয়। এগুলো না লিখলে আপনাদের চলে না?'

ইফতার সামগ্রী বিক্রির দোকানিদের বেশিরভাগই মাস্ক ছাড়াই খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করছেন। খাবার রাখা হয়েছে খোলা অবস্থায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাদ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

এদিকে ইফতার সামগ্রী কেনার পাশাপাশি ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় ফলের দোকানে। তরমুজ, কলা, আপেল, কমলা কিনতে উপচেপড়া ভিড় ফলের দোকানে।

লকডাউনের নিয়ম ভেঙে বাইরে আসা ক্রেতাদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী কেনার অজুহাত প্রবল। সাইফুল ইসলাম নামের একজন পথচারীর সঙ্গে কথা হয় ঢাকা টাইমসের। তিনি জানান, ইফতার সামগ্রী কিনতে শেকেরটেক থেকে ঢাকা উদ্যান এসেছেন তিনি। শেকেরটেকেও ইফতার সামগ্রী বিক্রির দোকান রয়েছে৷ সেখান থেকে এত দূরে আসার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমার যেখান থেকে ইচ্ছা, সেখান থেকে কিনব।'

বাসা থেকে বের হওয়ার জন্য মুভমেন্ট পাস নিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ওইসব লাগে না। আমি তো বেশি দূরে যাই নাই। মোহাম্মদপুরের মধ্যেই তো আছি।'

এমন নানা অজুহাতে লকডাউনের প্রথম দিন দিনভর সড়কে মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। আসরের পর ইফতার সামগ্রী কেনার অজুহাতে বাইরে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল সাধারণ সময়ের মতোই।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এক তথ্য মতে, কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা দিয়েছেন এমন মানুষের মধ্যে মিরপুরের রূপনগর ৪৬ শতাংশ মানুষের শরীরে কোভিডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যা দেশের যেকোনো থানা এলাকার মধ্যে সর্বোচ্চ। এরপর ৪৪ শতাংশ শনাক্ত রয়েছে আদাবরে। এছাড়া মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি এলাকায় এই হার ৩১ শতাংশের বেশি।

(ঢাকাটাইমস/১৪এপ্রিল/কারই/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :