স্বজনদের বাঁচাতে হাসপাতালেই কাটল কানিজদের ঈদ

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৪ মে ২০২১, ১৭:২১

বাবা আবুল কাশেমকে ডায়ালাইসিস করাতে কুষ্টিয়ার কানিজ ফাতিমা তিন দিন আগে নিয়ে আসেন মুগদা হাসপাতালে। বাবার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তার বাবাকে নেয়া হয় আইসিউতে। ফলে বাবার অসুস্থতার কারণে হাসপাতালেই এবারের ঈদুল ফিতরের দিন কেটেছে এই পরিবারটির।

ঈদের দিন দুপুরে হাসপাতালের আইসিইউর সামনে বসে মলিনমুখে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন কানিজ-মনির দম্পতি। খেতে খেতে জানালেন বাবার অসুস্থতার কথা। কথাগুলো বলতে গিয়ে বারবার কণ্ঠ আটকে যাচ্ছিল কানিজের। জানালেন তার বাবার অবস্থা সংকটাপন্ন। কথা বলতে চোখ গড়িয়ে অশ্রু গড়াবার উপক্রম।

৫০০ শয্যার মুগদা হাসপাতালে স্বজনদের অসুস্থতার কারণে কানিজ ফাতিমাদের মতো আরও অনেকের ঈদ কেটেছে। একে তো করোনাকাল অন্যদিকে স্বজনদের গুরুতর অসুস্থতার কারণে ঈদের বিন্দুমাত্র আনন্দ ছুঁতে পারেনি এসব পরিবারের সদস্যদের।

তবে ঈদের আনন্দ বিসর্জনের বিনিময়ে স্বজনদের সুস্থতা কামনা ছিল হাসপাতালে ঈদ কাটানো মানুষগুলোর।

এই হাসপাতালের সামনে বিমর্ষ হয়ে বসে থাকতে দেখা গেল আহমেদুল হক ও তার ভাইবোনদের। তাদের বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে মুগদা হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকেও হাসপাতালের আইসিউতে নেয়া হয়।

আহমেদুল হক বাবার অসুস্থতার কথা জানাতে গিয়ে ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা ছয় ভাই-বোনের পরিবারে বাবা ছাড়া আমাদের আপন কেউ নেই। আমরা সবাই লেখাপড়া করি। বাবা ছাড়া আমাদের বেঁচে থাকা আর মরে যাওয়ার কোনো তফাৎ নেই। ঈদের প্রয়োজন নেই, বাবাকে ভীষণ প্রয়োজন।’

মুগদা হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার অনিতা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘হাসপাতালে এখন করোনা আক্রান্ত হয়ে ১৫ জন আছেন আইসিউতে আছেন। আর চারজন এইচডিইউতেসহ মোট ৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী এই মুহূর্তে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।’

হাসপাতালের করোনার জন্য নির্ধারিত আইসিউতে কাজ করছেন ডা. কলি চৌধুরী। দেখেই মনে হচ্ছে ঈদের দিন কাজ করার বিষয়ে কোনো আফসোস বা আক্ষেপ নেই এই সম্মুখযোদ্ধার। ঈদের দিন দায়িত্ব পালনের বিষয়ে জানতে চাইলে অনেকটা স্বভাব সুলভভাবেই এই চিকিৎসক বলেন, ‘করোনা শুরু থেকে আমাদেরকে একটু বেশি কাজ করতে হচ্ছে। বিপদে মানুষের পাশে থাকবো এই অঙ্গীকার করেই পেশায় এসেছি। তাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ না কাটলেও রোগীদের পাশে থাকতে পেরে মানসিক স্বস্তি পাই।’

(ঢাকটাইমস/১৪মে/এসআর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :