গ্রাম্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০২১, ১৮:১৮

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা মোল্লাপাড়া গ্রামে ৮ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে খোরশেদ মোল্লা ওরফে খোরশেদ ডাক্তার (৬৫) নামে এক গ্রাম্য চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। নির্যাতনের শিকার শিশুটি মেঘনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

এ অভিযোগে গত ৩০ মে নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা বাদী হয়ে খোরশেদ ডাক্তারের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় একটি মামলা করেছেন। তবে মামলার ১৫ দিনেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

খোরশেদ ডাক্তার মেঘনা মোল্লাপাড়া গ্রামের মৃত তৈছা মোল্লার ছেলে। মেঘনা বাজারে তার ওষুধের দোকান রয়েছে।

শিশুটির মায়ের অভিযোগ, খোরশেদ ডাক্তার ও তার ছেলেরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তারা এলাকার ধনী প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে না।এ কারণে তার নামে মামলা করতেও দেরি হল।

শিশুটির মা বলেন, ‘খোরশেদ ডাক্তার আমাদের প্রতিবেশী। আমার স্বামী তার বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করেন। গত ১০ মে দুপুর ২টার দিকে আমার মেয়ে খোরশেদ ডাক্তারের পুকুর চালায় খেলা করছিল। এ সময় খোরশেদ আমার মেয়েকে তার ক্ষেত থেকে ভুট্টা তোলার কথা বলে ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে যায়। সেখানে সে আমার মেয়ের মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। এরপর খোরশেদ আমার মেয়েকে ছেড়ে দিলে মেয়ে কান্না করতে করতে বাড়িতে আসে। আমি কান্নার কারণ জানতে চাইলে সে আমাকে ঘটনা খুলে বলে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি আমি আমার স্বামীকে জানাই। খোরশেদ প্রভাবশালী হওয়ায় এবং আমার স্বামী তার বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করায় সবদিক বিবেচনা করে আমি ও আমার স্বামী আমার মেয়েকে গোপনে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করাই। কিন্তু এতে আমার মেয়ের সুস্থ না হওয়ায় ৩০ মে আমরা তাকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানকার চিকিৎসক আমার মেয়েকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। পরে ওইদিনই আমি বাদী হয়ে খোরশেদ ডাক্তারের বিরুদ্ধে পাংশা থানায় মামলা করি।’

শিশুটির মা আরও বলেন, ‘মামলার ১৫ দিনেও আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এখন খোরশেদ ডাক্তার ও তার ছেলেরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। তারা আমার বাড়িঘর পুড়িয়ে দিতে চাচ্ছে। আমি আতঙ্কে দিনযাপন করছি।’

খোরশেদ আলমের ছেলে ঝন্টু মোল্লা বলেন, তার বাবা একজন বয়ষ্ক মানুষ। তার সুনাম ক্ষুণ্ন করে ফায়দা হাসিলের জন্য একটি মহল এই মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা করে তাদের হয়রানি করছে।

পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মেঘনা মোল্লাপাড়া গ্রামে শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি খোরশেদ মোল্লা পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

শিশুটির পরিবারকে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘কেউ যদি ভিকটিমের পরিবারকে হুমকি দিয়ে থাকে- তাহলে তারা থানায় এসে জিডি করুক। আমরা অবশ্যই আইনগতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

(ঢাকাটাইমস/১৮জুন/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত