ভার্চুয়াল কোর্টেই আমাদের মুক্তি: প্রধান বিচারপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:৫৭

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, আমাদের মুক্তি হলো ভার্চুয়াল কোর্টে। ই-জুডিশিয়ারি ও ই-ফাইলিং চালু হলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে মামলার জট থাকবে না।

বুধবার সুপ্রিমকোর্ট অডিটোরিয়ামে ডিজিটাল আর্কাইভিং এবং ই-ফাইলিং ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম, আমরা জজ সাহেবরা ১০ লাখ টাকা প্রধানমন্ত্রীর ফান্ডে দেওয়ার জন্য। প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে টাকাটা দিয়ে বললাম, কোর্ট তো ফাংশান করছে না। সারা পৃথিবীতে কোর্ট চলছে। বাংলাদেশে শুধু কোর্ট চলছে না। তখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে বললেন ভার্চুয়াল কোর্ট করেন।

প্রধান বিচারপতি মাহমুদ হোসেন বলেন, ভার্চুয়াল কোর্টের আইন করা যে কত কঠিন। সেই আইন আমরা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে করেছি। এজন্য আমি মাননীয় আইনমন্ত্রী, বিচারপতি ইমান আলী ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদ দিব। আমরা সকলে বসে ভালো করে দেখেছি। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তার পরে আমরা আইনটা করেছি। তারপরে দেখা গেল মন্ত্রীসভা বৈঠক আর হচ্ছে না। তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার অনুরোধ করার পরে তিনি তিনজন মন্ত্রীকে দিয়ে গণভবনে মন্ত্রীসভার মিটিং করে আমাদের আইনের জন্য যে অর্ডিনেন্স সেটা পাস করেছেন। সুতরাং এত স্বল্পতম সময়ে এবং পরে মহামান্য রাষ্ট্রপতি বলেছেন, যেই দিন আমার কাছে আসবে সেই দিন সাথে সাথে সই করে দিব। সুতরাং এই স্বল্পতম সময়ে এ আইনটা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় আইনমন্ত্রীর কাছে আমি চিরদিন কৃতজ্ঞ থাকবো।

কারণ বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। তখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, জেলখানা আমার পক্ষে কন্ট্রোল করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু একটা করেন। এখন আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোর্টে যাবেন না। তারপরে ভার্চুয়াল কোর্ট হওয়ার পরে এক লাখ লোকের জামিন হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম আমাদের একটা মিস্টেক ছিল, ইউএনডিপির হেল্প নিয়েছি। ইউএনডিপির রিসোর্স লিমিটেড। আর সরকারের রিসোর্স হচ্ছে আন লিমিটেড। ইউএনডিপির রিসোর্স দিয়ে জাজদেরকে অ্যাপস দিতে পারি নাই্, সব কোর্ট কাজ করতে পারে নাই। লজিস্টিকের এত অভাব ছিল। এমনকি নিম্ন আদালতে তারা ফ্রি অ্যাপস দিয়ে কাজ করেছে। নিম্ন আদালতের জাজদেরকে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ দিব। তারা তখন ফ্রি অ্যাপসের মাধ্যমে কাজ করেছে।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, তারপর আমি দেখলাম এটা তো সমাধান হতে পারে না। কারণ এই পেন্ডামিক কত দিন চলবে তার কোনো ঠিক নাই।

আমি আবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি তো ভার্চুয়াল কোর্ট করে দিয়েছেন। এখন তো ভার্চুয়াল কোর্ট ভালোভাবে চলছে না লজিস্টিকের অভাবে। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন এটা তো আমাকে প্রথমেই বলা উচিত ছিল। আপনার কত টাকার প্রয়োজন। আমি বললাম আপাতত ১০ কোটি টাকা দিলে অ্যাপস ট্যাপস এগুলা কিনবো। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি কেউ ১০ কোটি টাকা চায়। আমি একটু লজ্জা পেলাম। তারপরে প্রধানমন্ত্রী মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে বললেন, প্রধান বিচারপতি যা কিছু চাবে, সব তাৎক্ষনিক দিতে হবে। এরপর সাথে সাথে প্রতিমন্ত্রী সব দিয়েছেন। এরপর আমি সব কিছু চালু করতে পেরেছি।

সুতরাং এটা আমার কাছে বেশি সাফল্য।এখান থেকে ফাইল খুজে বের করে কোর্টে দেওয়াটা দুসাধ্য কাজ।

আমরা যদি এটা আর্কাইভ করে রাখতে পারি। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। আমি আশা করি আমরা অচিরেই এটা করতে পারবো। মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর প্রতি আমি বিশেষ কৃতজ্ঞ। তার সঙ্গে আমি দুইটি মিটিং করেছি। তিনি আমাদের ফুল সাপোর্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, টাকা কোনো সমস্যা না। কারণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শুধু সুপ্রিমকোর্টের কাজ করার জন্য ২২০ কোটি টাকা দিয়েছে। যেখানে আমরা ভার্চুয়াল কোর্ট শুরু করেছি ১ লাখ ডলার দিয়ে। সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দিয়েছে ২২০ কোটি টাকা। এখানে হচ্ছে একটা ডেটা সেন্টার। যেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে আমাদের সমস্ত কিছু থাকবে। এটার জন্য খরচ হবে ১৫০ কোটি টাকা।

মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী ও আইসিটির উপদেষ্টা আমাদের যেইভাবে সাপোর্ট করেছেন, আমার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

ঢাকাটাইমস/১ ডিসেম্বর/এআইএম/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :