আ.লীগ একা চাইলে হবে না, সংলাপ হচ্ছে দুই পক্ষের বিষয়: আমিনুল ইসলাম আমিন

জাফর আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ১৭:০০ | প্রকাশিত : ০৩ মার্চ ২০২৩, ১৫:৪০

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার পুরো দায় বিএনপির বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। তিনি বলছেন, যারা বলেছিল পাগল আর শিশুরা ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কেউ নয়, এখন তারাই আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে। তারপরেও যদি নির্বাচন নিয়ে সংলাপের প্রয়োজন থাকে, সেটা আওয়ামী লীগ একা চাইলে হবে না। সংলাপ হচ্ছে দুই পক্ষের বিষয়।

সাবেক ছাত্র নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক। এর আগে তিনি দুইবার দলের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচনিত হন তিনি। এরপর ২০১২ সালেও একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে দলটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২১তম কাউন্সিলের পরও তাকে পুনরায় উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। পারিবারিকভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। ছাত্রলীগের হাত ধরেই রাজনীতিতে শুরু তার। ছাত্রলীগের বিভিন্ন পদে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হয়েছেন তিনি। দেশের চলমান রাজনীতিসহ নানা বিষয় নিয়ে ঢাকা টাইমসের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

ঢাকা টাইমস: আ.লীগ বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে নির্বাচনকে সামনে রেখে সংঘাতের দিকে যাচ্ছে কিনা?

আমিনুল ইসলাম আমিন: বিএনপি নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। দুইটি কারণে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে চাচ্ছে না। প্রথমত হতে পারে এমন, পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসিতে সারা পৃথিবীতে আপনি দেখবেন, পুরো নির্বাচনটা পরিচালিত হয় পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে। আওয়ামী লীগ কোনো সংঘাত চায় না। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু কোনো দল যদি দেশের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি করতে চায় এবং নির্বাচন বানচালের চেষ্ট করে- তাহলে আওয়ামী ছাড় দেবে না। বিএনপিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো লোক নেই। কারণ বিএনপির চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুজনেই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাই তারা কেউই নির্বাচন করতে পারবে না। তাছাড়াও বিএনপি ঘোষিত ২৭ দফায় একটি প্রস্তাব রয়েছে, এক ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না। ধরে নিলাম খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত নয় কিন্তু ইতোমধ্যে তিনি দুইবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এই প্রস্তাবের মধ্যদিয়ে বিএনপি খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার থেকে দূরে রাখছে। এটা তারেক রহমানকে নির্দেশে কিনা রাজনীতি বিশ্লেষকদের কাছে বড় প্রশ্ন। এসব কারণে বিএনপি নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে।

ঢাকা টাইমস: নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের প্রয়োজন আছে কিনা?

আমিনুল ইসলাম আমিন: সংলাপ হচ্ছে দুই পক্ষের বিষয়। আওয়ামী লীগ একা চাইলে তো সংলাপ হবে না। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তারা সংলাপে অংশ নেয়নি। বিএনপি সংলাপের সব ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য আওয়ামী লীগের ঠেকা পড়েনি। তাছাড়া বিএনপিকে নির্বাচনে আনার জন্য সাংবিধানিক দায় নেই। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধিনে। সংলাপের দায়িত্ব ইসির ওপরে বর্তায় আওয়ামী লীগের নয়।

ঢাকা টাইমস: অবাধ সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য কি করণীয় বলে মনে করেন?

আমিনুল ইসলাম আমিন: সংবিধান অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করার জন্য যা করার দরকার তাই করছে সরকার। গণতান্ত্রিকভাবে দেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রত্যেকটি দল নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়। কারণ প্রত্যেকটি দলের লক্ষ্য থাকে মানুষকে সেবা করা। মানুষের সেবা করতে হলে ক্ষমতায় যেতে হবে। ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায় নিয়ে ক্ষমতায় যাওয়া হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি। আর সেই পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে।

ঢাকা টাইমস: বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড়। তারা নির্বাচনে না এলে দেশে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হবে কিনা?

আমিনুল ইসলাম আমিন: তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করার পুরো দায় বিএনপির। এখন বিএনপির দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার। বিএনপি এক সময়ে বলেছিল, পাগল আর শিশুরা ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে কেউ নয়। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে তারাই বিতর্কিত করেছে। তাদের বিতর্কিত করার কারণে হাইকোর্ট সেটা বাতিল করে দিয়েছে। এখন আবার তারাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি করে। কোনো একটি দল নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করলে দেশের রাজনীতিতে খুব বেশি ইফেক্ট হবে বলে মনে করি না। বিএনপি না এলে বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল নির্বাচনে আসবে। উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলো চাচ্ছে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। আওয়ামী লীগ চাচ্ছি সকল দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন।

ঢাকা টাইমস: বিএনপির সঙ্গে অনেক ছোট ছোট দল যুক্ত হয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে?

আমিনুল ইসলাম আমিন: বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল আছে, যাদের বাটি চালান দিয়েও ১০ জনকে খুঁজে পাওয়া যায় না। এদের সংখ্যা ধরে লাভ হবে না। বাস্তবতায় যেতে হবে। বিএনপি হলো অবৈধভাবে ক্ষমতায় যেতে বিএনপি তাই যেই সেই দল নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। এসব দল নিয়ে আন্দোলন সুফল আসেবে না। দুর্ভাগ্যবশত ৭৫ পরবর্তী জিয়াউর রহমান ও এরশাদ দুজনই বন্দুকের নলে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রত্যেকটি দলই কমিটেড নির্বাচন করবে ও ভোটের মাধ্যমে জনগণ মতামত নেবে।

ঢাকা টাইমস: নির্বাচন উপলক্ষে আ.লীগ কোন বিষয়গুলোকে প্রধান্য দিয়ে জনগণের কাছে তুলে ধরবে।

আমিনুল ইসলাম আমিন: ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের নির্মাণে ষোঘণা দিয়েছিল তখন অনেকেই আমাদের তাচ্ছিল্য করে কথা বলেছিল। কিন্ত আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ করে দেখিয়ে দিয়েছে। এখন আওয়ামী লীগ স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছে। ২০৪১ সালে দেশ উন্নত বিশ্বের কাতারে যাবে। শুধুমাত্র অর্থনৈতিক মাণদণ্ড দিয়ে নয়, চিন্তা-চেতনা, মানসিকতা ও শিক্ষায়। আওয়ামী লীগ যা বলে তা বাস্তবায়ন করে। আগামী নির্বাচন উপলক্ষে দেশের যুবসমাজের কাছে দেশের উন্নয়নসহ সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা তুলে ধরব। ২০০৮ সালে যেভাবে দেশের তরুণ ও যুবসমাজের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়েছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দেশের যুবসমাজ শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতি আস্থা রেখে দেশের উন্নয়ন অর্জন দেখে ভোট দেবে। যুবসমাজ যখন গভীরভাবে চিন্তা করে দেখবে, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন হয় এবং দেশের মধ্যে খাদ্য ঘাটতি হয় না। তখন শেখ হাসিনার ওপরে আস্থা রাখবে। আওয়ামী লীগের আমলে দেশের ৯ লাখ ভূমিহীন, গৃহহীন মানুষ, ভূমি পায়, ঘর পেয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের আর কোনো দেশ এটা করতে পারেনি। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে পিছিয়ে পড়া, কষ্টে থাকা দেশে ১ কোটি পরিবারকে টিসিবির মাধ্যমে ৩৫ টাকায় খাবার দিচ্ছে। ওএমএসের মাধ্যমে ১৫ টাকায় চাল দিচ্ছে। আর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভিজিএফএর মাধ্যমে বিনামূল্যে চাল দিচ্ছে। এটা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তরুণ ও যুবসমাজ যখন দেখবে, বৃদ্ধ মা-বাবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীরা ছিল সমাজের বোঝা, তাদের শেখ হাসিনা সরকার সামাজিক নিরাপত্তার বেস্টুনিতে এনে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করে সম্পদে পরিণত করেছেন। তখন শেখ হাসিনাই ভোট দেবে। বাবা-মারা ছেলে-মেয়েদের বই কেনা ও বেতনের টাকার জন্য স্কুলে পাঠাতে পারত না। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই বিনামূল্যে বই পাচ্ছে, তাদের উপবৃত্তির টাকা মোবাইলে মাধ্যমে পৌঁছে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে তরুণ প্রজন্ম আগামীতেও নৌকা ভোট দেবে।

ঢাকা টাইমস: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী কিনা ?

আমিনুল ইসলাম আমিন: দলের মধ্যে থাকা প্রতিট নেতারই ইচ্ছে থাকে জনপ্রতিনিধি হয়ে এলাকার মানষের সেবা করার। আমারও তার ব্যতিক্রম নয়। এর আগেও দলীয় মনোনয়নের চেয়েছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও একদিনের জন্য আমি আমার লোহাগড়া-সাতকানিয়ার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করিনি। আগে দল তারপর মনোনয়ন। মনোনয়ন হচ্ছে সেকেন্ড পার্ট। আমি মনোনয়নের জন্য রাজনীতিতে করি না, আমি রাজনীতিতে আছি কমিটমেন্ট নিয়ে। এখন অনেকই রাজনীতি করে দলীয় মনোয়নের আশায়। যাকে ঘিরে দেশের লাখো নেতাকর্মীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আবর্তিত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা, তিনি তো আমাকে মূল্যায়ন করেছেন দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে দল থেকে মনোনীত করেন- তাহলে নির্বাচন করব।

ঢাকা টাইমস: আপনার নির্বাচনী এলাক নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আছে কিনা?

আমিনুল ইসলাম আমিন: আমি সবসময় এলাকার মানুষের সঙ্গে আছি। তারপরও প্রথমে এলাকার কিছু বেসিক প্রবলেম চিহ্নিত করে কাজ করতে হবে। দেশের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে সেই তুলনায় সাতকানিয়া লোহাগড়া কিছুটা পিছিয়ে আছে। সাতকানিয়া লোহাগড়ার অধিকাংশ মানুষই ব্যবসা বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। কিভাবে তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধাগুলো আরও বাড়ানো যায় সেটার প্রতি ভাবনা আছে। ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো হলেই অর্থনৈতিক গতিশীল হবে। এছাড়া এলাকার সব মানুষকে নিয়ে এলাকার মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে করব। নির্বাচনের আগে দলীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সাথে বসে কোথায়-কোথায় কি কি কাজ অসস্পন্ন আছে, সেগুলোকে খুজে বের করব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা সেগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলব। জাতিকে শিক্ষিত করতে না পারলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন দিয়ে হবে না। প্রযুক্তিগত দিকে আরও জোড় দিয়ে ব্যাপক মানুষকে কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসব। যেটা স্মার্ট বাংলাদেশের সঙ্গে খাপ খায়। সৃষ্টিশীল কিছু কাজ করব যাতে তরুণ সমাজ ভবিষ্যতে আশার আলো দেখতে পায়।

ঢাকা টাইমস: স্থানীয় নেতাকর্মী আপনার আছে কিনা?

আমিনুল ইসলাম আমিন: আমার বেড়ে ওঠা শৈশব-কৈশোর সবই চট্টগ্রাম শহরে। আমার রাজনীতির হাতেখড়িও চট্টগ্রাম শহরে। তবে আমি ২০০৩ সালে অক্টোবর থেকে সাতকানিয়া- লোহাগাড়ায় আসা-যাওয়া শুরু করছি। তখন সাতকানিয়া স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল। সেখানে আওয়ামী লীগ খুবই দুর্বল সংগঠন ছিল। তখন আমি চিন্তা করলাম যে, সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগের জন্য সাফল্য আনা মানেই পাথরে ফুল ফোটানোর মতো আনন্দের বিষয়। সেই থেকে এলাকার মানুষের সঙ্গে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কাজ করা শুরু করি।

২০০৩ থেকে ০৬ সাল পর্যন্ত সাতকানিয়াতে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব অনেক ভয়াবহ পর্যায়ে ছিল, অনেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী তাদের মৃত বাবা-মার জানাজা যেতে পারতেন না। ভাই-বোনের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া তো স্বপ্নের ব্যাপার ছিল। অর্থাৎ কঠিন একটা সময়। গোলাম হোসেনসহ অসংখ্য নেতাকর্মী শিবিরের হাতে নিহত হয়েছে। শত-শত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। সে সময় আমি কয়েকজন সাহসী নেতাকর্মী নিয়ে সাতকানিয়াতে যাওয়া-আসা শুরু করি। ধীরে ধীরে সেখানে মানুষের মাঝে একটা অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করেছি। ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছে, সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছি। তাই স্থানীয় মানুষের আমার প্রতি আস্থা ভালোবাসা আছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরাও আমার সঙ্গে আছে।

ঢাকা টাইমস: নির্বাচনী বছরে আ.লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দলের জন্য কী কী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?

আমিনুল ইসলাম আমিন: আমাদের মতো দেশে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদকের পদে থেকে সারাবছরই পিছিয়ে পড়া জনগণের কল্যাণে কাজ করা যায়। আমার আগে যিনি আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন, তিনি করোনাকালে দুর্যোগের সময় অনেকগুলো সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে আমাদের কর্মসূচিগুলো শুধুমাত্র দুর্যোগকেন্দ্রিক না রেখে, বছরব্যাপী সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন অংশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। সে প্রসঙ্গে আমরা দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলব, দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলাপ করব। তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়েই কাজ করব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

সাক্ষাৎকার এর সর্বশেষ

সচেতনতার শক্তি পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি শক্তিশালী

স্বাধীনতার পর থেকেই দেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা: এস. এম. মঞ্জুরুল হক 

‘স্থিতিশীল সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে সরকারকে ভারসাম্যমূলক নীতি-উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’: ড. আতিউর রহমান

প্রতি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল আর্মিরা ধরে নিয়ে যাবে: ফরিদা খানম সাকি

দাম বাড়ালে এতক্ষণে কার্যকর হয়ে যেত: ক্যাব সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন

জন্ম থেকেই নারীদের যুদ্ধ শুরু হয়: নারী উদ্যোক্তা ফরিদা আশা

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই

ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম করা উচিত: কাউন্সিলর আবুল বাশার

তদারকি সংস্থা এবং ভবন নির্মাতাদের দায়িত্বশীল হতে হবে: অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান

বেইলি রোডের আগুনে রাজউকের ঘাটতি রয়েছে: মো. আশরাফুল ইসলাম

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :