ট্রাম্পের এবার কলম্বিয়া ও কিউবায় সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই একের পর এক কড়া সিদ্ধান্ত ও হুমকির মাধ্যমে বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা ছড়াচ্ছেন। এবার লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার গভীর রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেন। একইসঙ্গে কিউবার সরকার শিগগিরই পতনের মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “ভেনেজুয়েলা খুবই অসুস্থ। কলম্বিয়াও অসুস্থ—একজন অসুস্থ মানুষের দ্বারা পরিচালিত একটি দেশ, যারা কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করে। তারা আর বেশি দিন এটা করতে পারবে না।”
এ সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, এর অর্থ কি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান চালাতে পারে? উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে এটা ভালোই শোনাচ্ছে।” তার এই বক্তব্যকে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হুমকি হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
একই আলোচনায় কিউবা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি এখন পতনের জন্য প্রস্তুত। তার দাবি, কিউবার আর কোনো উল্লেখযোগ্য আয় নেই এবং ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আমদানির ওপর নির্ভর করেই দেশটি টিকে ছিল। “এখন সেটাও পাচ্ছে না। কিউবা কার্যত ভেঙে পড়ার পথে,” বলেন ট্রাম্প। তবে কিউবার ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বহু কিউবান–আমেরিকান কিউবার এই পরিস্থিতিতে খুশি হবেন।
হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নথিতে অভিবাসন, মাদক পাচার এবং চীনা প্রভাবকে প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই নথিতে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়াকে সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথাও রয়েছে।
এ বিষয়ে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ট্রাম্প প্রয়োজনে এসব দেশে সামরিক শক্তি প্রয়োগে পিছপা হবেন না। এতে লাতিন আমেরিকায় নতুন সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প কখনো যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করছেন, কখনো শুল্কযুদ্ধ শুরু করছেন, আবার কখনো মাদক নির্মূলের নামে সরাসরি বিদেশি রাষ্ট্রে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইরান, ভেনেজুয়েলা, গ্রিনল্যান্ড, কানাডা, পানামা, মেক্সিকো, চীন, রাশিয়া ও ভারতকেও তিনি বিভিন্ন সময় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে হুমকির আওতায় এনেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এসব বক্তব্য ও অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলছে।
(ঢাকাটাইমস/০৫ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































