রাতারাতি হলফনামা বদল
কিশোরগঞ্জ-৫: প্রার্থী হুদাকে বাঁচাতে জালিয়াতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদার মনোনয়নপত্রকে ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, তথ্য গোপন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় স্বাক্ষর নেই, তারিখ নেই, ছবি নেই, এমনকি একাধিক কলাম ফাঁকা রাখা ও ভুল তথ্য প্রদান সত্ত্বেও কীভাবে তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলো, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল।
এ বিষয়ে গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) তিনি নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক আপিল দায়ের করেছেন। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রথমে যে হলফনামা প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে অসংখ্য অনিয়ম ও ত্রুটি ছিল। কিন্তু মিডিয়ায় বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর রাতারাতি আগের হলফনামা সরিয়ে নতুন হলফনামা আপলোড করা হয়েছে।
আপিল সূত্র এবং নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রার্থী সৈয়দ এহসানুল হুদা হলফনামায় আইন ও বিধির একাধিক মৌলিক শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো ঘর ফাঁকা রাখা যাবে না, হলফনামা সম্পূর্ণ পূরণ ও যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে, প্রার্থীর স্বাক্ষর, তারিখ ও ছবি সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, হুদার দাখিল করা হলফনামায় এগুলোর কোনোটিই সঠিকভাবে নেই।
হলফনামায় যা যা অনুপস্থিত
আপিলে উল্লেখ করা হয়, প্রার্থীর স্বাক্ষর নেই, তারিখ নেই, ছবি নেই, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নোটারি পাবলিক কর্তৃক যথাযথ সত্যায়ন নেই। এমন একটি হলফনামা নির্বাচন আইনে আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক।
অভিযোগ অনুযায়ী হলফনামার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে রয়েছে অসংখ্য ভুল, অসম্পূর্ণ ও গোপন তথ্য। ৩ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ৩ নম্বর কলামের ‘গ’ অনুচ্ছেদ অসম্পূর্ণ, ৭ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য, ৭ নম্বর কলামের ‘খ’ অনুচ্ছেদ অসম্পূর্ণ, ৭ নম্বর কলামের ‘গ’ অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণ খালি, ৮ নম্বর কলাম ফাঁকা রাখা, ১০ নম্বর কলামের ‘ক’ অনুচ্ছেদে ভুল তথ্য প্রদান।
আপিলকারী ইকবাল বলছেন, এগুলো কোনো সাধারণ ক্রুটি নয়, এগুলো সরাসরি আইন লঙ্ঘন।
এদিকে রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, বিস্ময়করভাবে ৩ জানুয়ারি যাচাই-বাছাইয়ের দিন এতসব ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও জেলা রিটার্নিং অফিসার কোনো আপত্তি তোলেননি। বরং মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। ইকবালের অভিযোগ, হলফনামা যদি সঠিকভাবে যাচাই করা হতো, মনোনয়ন গ্রহণের কোনো সুযোগই ছিল না।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, স্বাক্ষর ছাড়া, ছবি ছাড়াই, ফাঁকা কলাম রেখেই যদি কারও মনোনয়ন বৈধ হয়, তাহলে যাচাই-বাছাইয়ের মান ও পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়?
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে আগের হলফনামা সরিয়ে নতুন হলফনামা আপলোড করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীর ভাষ্য, যে হলফনামার অনিয়মে হুদার মনোনয়ন বাতিল হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরে পাল্টে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ-৫ সৈয়দ এহসানুল হুদার বিরুদ্ধে অনিয়ম, জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ বিবেচনায় মনোনয়ন বাতিলের দাবি করা হয়েছে। এখন পুরো বিষয়টি কমিশন কীভাবে মূল্যায়ন করে তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ। এ নিয়ে সোমবার বেলা ১২ টার দিকে নির্বাচন কমিশনের শুনানী রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































