ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় ২৫ শতাংশ শুল্কের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা

ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যে কোনো দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক (আমদানি কর) আরোপ করা হবে। এ ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। আলজাজিরার খবরে বলা হয়, ট্রাম্প জানিয়েছেন এই শুল্ক ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’ হবে। তবে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা’ বলতে ঠিক কোন ধরনের লেনদেনকে বোঝানো হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা যেকোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা সব ধরনের ব্যবসার ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই আদেশ চূড়ান্ত এবং অপরিবর্তনীয়।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে দেশটি যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়ে সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার আলজাজিরা আরবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের পথ এখনো খোলা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরান সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তার দাবি, গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় ইরান এখন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের প্রধান জামাল আবদি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান বড় কোনো ছাড় দিতে নাও পারে। তার ভাষায়, সরকার রাস্তায় পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে।
তবে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট এখনো কাটেনি। বিক্ষোভে হতাহতের ঘটনায় সামনে আরও শোকানুষ্ঠান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
জামাল আবদি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্ভাব্য আলোচনায় মূল ইস্যু হতে পারে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি। একই সঙ্গে ইসরাইল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসে আগ্রহী—এমন ইঙ্গিতও রয়েছে। তার মতে, সামরিক সংঘাত শুরু হলে এসব স্থাপনাই প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা এবং কূটনৈতিক টানাপড়েন দেখে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, ইতিহাসের পাতা হয়তো খুব শিগগিরই সাক্ষী হতে চলেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনার। সব মিলিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চাপ, হুমকি এবং আলোচনার সম্ভাবনা—তিনটি বিষয়ই একসঙ্গে সামনে এসেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব রাজনীতি।
(ঢাকাটাইমস/১৩ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































