যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন: ট্রাম্প

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে আপনারা সবাই এখন জার্মান ভাষায় কথা বলতেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, বক্তব্যটি অপমানজনক, আধিপত্যবাদী এবং তথ্যগতভাবে ভুল। উল্লেখ্য, জার্মান ভাষা সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলেও ইউরোপজুড়ে একক আধিপত্যশীল ভাষা নয়।
ভাষণে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে—যা তিনি অতীতেও একাধিকবার বলেছেন। তবে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিত্র ও বন্ধুদেশগুলোর সামনে এমন মন্তব্য করায় এর প্রতিক্রিয়া এবার আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
ফোরাম শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর আরোপের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে এই কাঠামো কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব নিশ্চিত করবে, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের বলেন, এই ভাষণ প্রমাণ করে যে ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট। সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার ঘোষণাকে তিনি ইতিবাচক বললেও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চলবে। আলোচনার লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি ঠেকানো। আলোচনার সময়সূচি এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দূত স্টিভ উইটকফ।
এর আগে দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই সামরিক শক্তি ব্যবহার করবে না। আমি বলপ্রয়োগ চাই না।”
ট্রাম্পের এই অবস্থান পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান ঘটায়। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন, ট্রাম্পের সুর নরম হলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি।
(ঢাকাটাইমস/২২ জানুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































