নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক, চীন ইস্যুতে চীনা দূতাবাসের প্রতিবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র।
সূত্র জানায়, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পলিটিকাল কাউন্সেলর এরিক গিলানও উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় বৈঠকটি শুরু হয় এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে।
বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বৈঠকে বাংলাদেশের ওপর চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব কমানো, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
গত ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন দ্রুতগতিতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পরিচয়পত্র পেশের পর থেকে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করে নির্বাচন, গণতান্ত্রিক ধারা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মতবিনিময় করছেন।
এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের চীন-সংক্রান্ত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত চীনা দূতাবাস।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান, যা দূতাবাসের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ এবং বাংলাদেশকে চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব বক্তব্য সঠিক ও ভুলের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং তা অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চীন ও বাংলাদেশের মধ্যকার সহযোগিতা একটি সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বিষয়, যেখানে তৃতীয় কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































