ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, ফের অনুভূত কাঁপুনি

অনলাইন ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:১১
অ- অ+

বাংলাদেশে ৩.০ শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এনসিএসের বিবৃতি অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে, যা বাংলাদেশের ভেতরেই পড়ে। এ বিষয়ে গালফ নিউজ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

এনসিএস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, ‘০১/০২/২০২৬ তারিখ ভোর ৪টা ০২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে বাংলাদেশে ৩.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২০ কিলোমিটার।’

অন্যদিকে আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থা ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, রোববার ভোরে বাংলাদেশে হালকা মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে (জিএমটি+৬) সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল তুলনামূলকভাবে অগভীর—প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)।

তবে ভূমিকম্পটি হালকা হওয়ায় কোথাও কম্পন অনুভূত হওয়ার বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এই প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।

বাংলাদেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব বিবেচনায় দেশটিকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে ঢাকাকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজধানীতে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ ভাগ অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং অনেক ভবন জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করেই তৈরি।

চলতি বছরে প্রায় ৩,৫০০ অবৈধ ভবন চিহ্নিত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), যেগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানও চলছে।

শহরের অপরিকল্পিত বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তা কম্পনের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।

ঢাকার অনেক অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটিতে তৈরি, যা শক্তিশালী কম্পনে তরলীকৃত হয়ে ভবন ধসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবন ২০–৩০ বছর আগে নির্মিত, যেখানে রড-সিমেন্টের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি।

ঢাকার কাছে গত ১৫–২০ বছরে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়েছিল ২০১০ সালে, যার মাত্রা ছিল ৫.১। ১৮৮৫ সালে মানিকগঞ্জে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার কম্পন ঘটলে ঢাকা শহরের কয়েক লাখ ভবন ধসে পড়তে পারে।

(ঢাকাটাইমস/১ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল আজ, ফাইনালের পথে এগিয়ে কে? জানালো সুপার কম্পিউটার
রকারোলা ম্যালওয়্যারের ভয়ংকর ফাঁদ, মুহূর্তেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও পতন
ডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় ৩৭৭ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪১
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা