ভোটকেন্দ্রের দিকে পা বাড়ানোর সময় এখন

আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব। এই সিদ্ধান্তের ওপর কোনো ছায়া পড়তে দেব না। কোনো ভয়ের ছোঁয়া নয়, কোনো লোভের টান নয়। শুধু নিজের বিবেকের নির্দেশ মেনে। আজ রাত পোহালেই ভোট। কাল সকাল হলেই কেন্দ্রের দিকে পা বাড়ানোর সময়।
বেহেশতে যাওয়া যেমন কারও মিষ্টি কথায় হয় না, তেমনি একটা ভোট ফেললেই এক কোটি চাকরি ম্যাজিকের মতো এসে পড়বে, এমন প্রতিশ্রুতি কখনো বাস্তবে রূপ নেয় না। তবু আমরা ভোট দিতে যাই। কারণ গণতন্ত্রের আলো কখনো নিভে যায় না। সেই আলোই আমাদের হাত ধরে নিয়ে যায় ব্যালট বাক্সের সামনে।
গত আঠারো মাস দেশ যে ঝড়-ঝাপটার মধ্য দিয়ে গেছে, তার যন্ত্রণা সহ্য করেছে সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ হাজার টাকার মালিকানা থেকে শত কোটি টাকার মালিক হয়েছে। আর মাঝখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের আস্থা, ব্যাংকের বিশ্বাস, সবকিছু ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। আগের সরকার তিনটি একতরফা নির্বাচনে ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে গিয়ে উন্নয়নের নামে যা করেছে, তা আজ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, দেশের স্বার্থ সংকুচিত হয়েছে। একপেশে বন্ধুত্বের নামে অনেক কিছু হারিয়েছে আমরা।
তবু বাংলাদেশ থামেনি। আঠারো কোটি মানুষের এই মাটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। সম্ভাবনায় ঝলমলে একটা দেশ। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো- সবাই এখানে বিনিয়োগ করতে উৎসুক। আগ্রহের আলো চোখে।
আজ বিকেলে ছোট ভাইয়ের অফিসে দেখা হয়ে গেল একজন বিদেশি গার্মেন্টস বায়ারের সঙ্গে। বছরের পর বছর বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করতে করতে বাংলা ভাষা তার মুখে এসে বসেছে, আমাদের সংস্কৃতি তার হৃদয়ে মিশে গেছে, মানুষের উষ্ণতা তার চোখে ধরা পড়ে। সে বলল, অনেক বড় বড় কোম্পানি এখানে পাওয়ার প্ল্যান্ট বানাতে, গার্মেন্টস বাড়াতে, ফার্মাসিউটিক্যাল খুলতে প্রস্তুত। শুধু অপেক্ষায় আছে- কাল কী হয়, সেটা দেখার জন্য।
আর প্রেসিডেন্ট পার্কে জাপানি দূতাবাসের এক কূটনীতিকের সঙ্গে কথা হলো। হাসিমুখে অভিনন্দন জানালেন। বললেন, ‘কাল তোমাদের নির্বাচন। আশা করি বাংলাদেশ একটা ভালো, স্থিতিশীল সরকার পাবে।’
এই সব মিলিয়ে মনে হয়, এই ভোট কেবল একটা দিনের ঘটনা নয়। এটা আমাদের আগামী দিনগুলোর দিকনির্দেশ। আমরা যাকে বেছে নেব, সেই হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাবে।
আল্লাহ আমাদের এই দেশকে শান্তি, স্থিরতা আর ন্যায়ের পথে নেতৃত্ব দান করুন। কালকের ভোট যেন হয় সত্যিকারের উৎসব, যেন প্রতিটি ভোটারের হাতে থাকে নিজের ভাগ্য গড়ার ক্ষমতা।
লেখক: সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে এরিক এরশাদের মা।
(ঢাকাটাইমস/১১ফেব্রুয়ারি/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































