সৌদি আরবে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকে রমজান শুরু

রমজানের রোজা ফরজ ইবাদত ও আল্লাহর নির্দেশ। ঈমানদারদের জন্য রোজা রাখা যে ফরজ তা জানিয়ে মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দেন: ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেভাবে তোমাদের আগের লোকদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছিল। যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৩)
ফারসি শব্দ রোজার আরবি অর্থ হচ্ছে সওম, বহুবচনে সিয়াম। সওম বা সিয়ামের বাংলা অর্থ বিরত থাকা। ইসলামী শরীয়তে সিয়াম হল আল্লাহর নির্দেশ পালনের উদ্দেশে নিয়তসহ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, কামাচার, পাপাচার এবং সেই সাথে যাবতীয় ভোগ-বিলাস ও অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম বা রোজা।
চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে যেমন রোজা শুরু বা শেষ হওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়, তেমনি সূর্যের উদয় বা অস্ত যাওয়ার ওপর নির্ভর করে রোজার সময়।
এবার সৌদি আরবের প্রচলিত উম্ম আল-কুরা হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জ্যোতির্বিদ্যা সংস্থা বলছে, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওই অঞ্চলের কোথাও নতুন চাঁদ দেখার সম্ভাবনা নেই—ফলে রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে ভিন্নমত তৈরি হয়েছে।প্রতিবেশী সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর একাধিক জ্যোতির্বিদ্যা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন চাঁদ দেখা বৈজ্ঞানিকভাবে অসম্ভব। একই মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান কেন্দ্রের পরিচালক মোহাম্মদ ওদেহ।
এদিকে শারজাহ জ্যোতির্বিদ্যা, মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি একাডেমি–ও জানিয়েছে, জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী ওই দিনে চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নিউ মুন সাইটিং কমিটি–এর পরিচালক ইমাদ আহমেদ বলেন, “১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের কোথাও চাঁদ দেখা সম্ভব নয়।”
অন্যদিকে সৌদি আরব–এর উম্ম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান শুরু হওয়ার কথা ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই। অতীতেও জ্যোতির্বিদদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ক্যালেন্ডার অনুসরণ করে রমজান ও ঈদের তারিখ নির্ধারণ করেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলতি বছরও রমজান শুরুর তারিখ নিয়ে সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের মধ্যে ভিন্ন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ফলে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একদিনের ব্যবধানে রোজা শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসলামিক ক্যালেন্ডারের অন্যান্য মাসের মতো রমজানও নতুন চাঁদ দেখার পর সামান্যতম অর্ধচন্দ্র দেখার মাধ্যমে শুরু এবং শেষ হয়। রমজান মাস কখন শুরু হবে তা নির্ধারণ, অর্ধচন্দ্র দেখার উপর ভিত্তি করে, স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন দেশে বা এমনকি বিভিন্ন মসজিদ দ্বারা করা হয়, যার ফলে রোজার সুনির্দিষ্ট শুরুর পরিবর্তনশীলতা তৈরি হয়। কিছু সম্প্রদায় বা দেশ - যেমন তুরস্ক (তুর্কি) - জ্যোতির্বিদ্যাগত গণনার উপর ভিত্তি করে রমজানের শুরু করে, অন্যদিকে অন্যান্য সম্প্রদায়ের নেতাদের অর্ধচন্দ্রের উপস্থিতির চাক্ষুষ নিশ্চিতকরণের প্রয়োজন হয় , এই ক্ষেত্রে মেঘের আবরণ বিলম্বের কারণ হতে পারে। অস্তমিত অর্ধচন্দ্র দেখার উপর নির্ভর করে ইসলামী মাসগুলি ২৯ বা ৩০ দিন স্থায়ী হয়, তাই মুসলমানরা রমজানের জন্য প্রায় ২৯ বা ৩০ দিন রোজা রাখে। যেহেতু মুসলিম ক্যালেন্ডার বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার বছরের চেয়ে ছোট , রমজান প্রতি বছর ১০-১২ দিন আগে শুরু হয়, যা ৩৩ বছরের চক্র জুড়ে প্রতিটি ঋতুতে পড়তে দেয় ।
(ঢাকাটাইমস/১৭ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































