ইরানে নতুন করে ভয়াবহ হামলা: ৪৩ সেনা ও ২০ ভলিবল খেলোয়াড় নিহত

ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অন্তত ৬৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৪৩ জন সেনা সদস্য এবং ২০ জন ভলিবল খেলোয়াড় রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলায় আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন।
রবিবার (১ মার্চ) পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহর মেহরানে একটি সামরিক রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই সীমান্তরক্ষী সদস্য। বিস্ফোরণে আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এজেন্টরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
এদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে একই দিনে চারটি রকেট আঘাত হানে। এর মধ্যে লামের্দ শহরের একটি স্পোর্টস হল সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার সময় সেখানে ভলিবল অনুশীলন চলছিল বলে জানা গেছে। এতে অন্তত ২০ জন খেলোয়াড় নিহত হন।
স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
হামলার দায় এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। ইসরায়েলও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ হামলা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও তাদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তালিকায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নামও থাকতে পারে।
অন্যদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি লেবার নিউজ এজেন্সি। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চল নার্নাকে তার বাসভবনে হামলায় তিনি ও তার কয়েকজন দেহরক্ষী নিহত হন।
তবে আহমেদিনেজাদের মৃত্যুর বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং ইরান সরকারও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি।
সাম্প্রতিক এসব হামলার ঘটনায় গোটা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ তাঁর মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। এছাড়া শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীও নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বহুমুখী হামলা-পাল্টা হামলায় অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে। ইরানে চালানো ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
(ঢাকাটাইমস/২ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































