ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৯| আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৫
অ- অ+

ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হামলায় নিহত হওয়ার পর ‘এসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘Islamic Revolutionary Guard Corps’ (আইআরজিসি)-এর প্রভাব ও সমর্থনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এক হামলায় আলি খামেনি ও তার শীর্ষ সহযোগীরা নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং আইআরজিসির কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

হামলার আগে শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি লারিজানি-র সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন খামেনি। তবে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। প্রকাশিত ছবিতে প্রাসাদসদৃশ ভবনটি আংশিক ধসে পড়া এবং চারপাশ কালো হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখা যায়, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য জানানো হয়নি।

মোজতবা খামেনি ১৯৬৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কোম শহরের সেমিনারিতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং সেখানে শিক্ষকতাও করেন।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি ‘অফিস অব দ্য সুপ্রিম লিডার’-এর অন্যতম প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তার বিস্তৃত যোগাযোগ ছিল। ২০০৫ ও ২০০৯ সালের নির্বাচনে সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ-এর বিজয়ে নেপথ্য ভূমিকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়া ২০০৯ সালের নির্বাচন-পরবর্তী আন্দোলন এবং ২০২২ সালে জিনা মাহসা আমিনী-র মৃত্যুর পর দেশব্যাপী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোরভাবে পরিচালনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসে। ২০২২ সালের আগস্টে কোম সেমিনারির সংশ্লিষ্ট একটি মহল তাকে ‘আয়াতুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত করে, যা অনেক বিশ্লেষকের মতে উত্তরসূরি হওয়ার পূর্বপ্রস্তুতির অংশ ছিল।

বর্তমানে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন ইরান গভীর ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে তার নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষমতার এই রদবদল ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং আঞ্চলিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে হামলা ও নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ বিবৃতি না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

(ঢাকাটাইমস/৪ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা