ইরান হামলার দায় নিজেই স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের মাধ্যমে খামিনিসহ বহু মানুষকে হত্যার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইসরাইলকে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়; বরং তিনিই ইসরাইলকে হামলার জন্য প্ররোচিত করেছেন।
এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্র লড়ছে। তবে হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প রুবিওর বক্তব্য সরাসরি নাকচ করে বলেন, ইসরাইল উসকানি দেয়নি, সিদ্ধান্ত ছিল তারই।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলর Olaf Scholz-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে তথ্য ছিল যে ইরান আগে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করছিল। আমি সেটা হতে দিতে চাইনি। তাই আমরা আগে পদক্ষেপ নিয়েছি।”
তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এক হাজার সাতশোর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং অভিযান শেষ হলে ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামো কার্যত অচল হয়ে পড়বে।
ট্রাম্প বলেন, “ইসরাইল প্রস্তুত ছিল, আমরাও প্রস্তুত ছিলাম। আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছি। ইরানের প্রায় সব সামরিক সক্ষমতা এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমছে।”
ইরানের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি নতুন নেতা আগের মতোই ‘ক্ষতিকর’ হন। তিনি নির্বাসিত রাজপুত্ রেজা পাহলভিকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করেন না বলেও জানান। তার মতে, ইরানের নেতৃত্ব ইরানের ভেতর থেকেই নির্ধারিত হওয়া উচিত।
একইসঙ্গে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও নাকচ করেন ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর পর তেহরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে এখন সে সময় পার হয়ে গেছে।
এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি। বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি’র প্রভাবের মুখে ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাকে এই পদে নির্বাচিত করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানানো হয়। এর জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ একাধিক স্থানে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতি হওয়া এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
(ঢাকাটাইমস/৪ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































