ট্রাম্পের অঙ্কে বিরাট ভুল? ‘ওয়ার অব চয়েস’ তত্ত্বে তোলপাড় মার্কিন রাজনীতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১৬| আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১৯
অ- অ+

ইরান হামলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সিদ্ধান্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের একাংশ একে ‘War of choice’ বা ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি সমালোচকদের দাবি, ‘এপস্টিন ফাইলস’ ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতেই এই যুদ্ধ—এমন অভিযোগও উঠছে।

গত ১ মার্চ ক্যাপিটল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ইরান আগে হামলা চালাবে—এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নারও একই বক্তব্য দিয়েছেন।

অন্যদিকে ২ মার্চ আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফেল গ্রোসি জানান, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সংগঠিতভাবে অস্ত্র তৈরির প্রমাণ মেলেনি। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’ যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা ছিল, বি-২ বোমারু বিমান ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো ভেঙে পড়বে এবং দ্রুত ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটবে। কিন্তু ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক Stimson Center ও Atlantic Council বলছে, কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে সরকার পতন সম্ভব নয়; প্রয়োজন হলে ‘বুটস অন দ্য গ্রাউন্ড’ অর্থাৎ স্থলবাহিনী নামাতে হবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জাগরোস পর্বতমালার দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও ইরানের বিকেন্দ্রীভূত ‘মোজাইক ডিফেন্স’ কৌশলের কারণে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন হবে ‘মাদার অব অল কোয়াগমায়ার্স’। অনুমান করা হচ্ছে, এমন অভিযানে লক্ষাধিক সেনা প্রয়োজন হতে পারে—যা দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, আরব বিশ্ব এ যুদ্ধে পাশে থাকবে। কিন্তু সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। ইউরোপীয় মিত্ররাও সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে যায়নি; বরং ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য একতরফা পদক্ষেপের সমালোচনা করে শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্রাম্পের অন্যতম বড় বাজি ছিল—ইরানের জনগণ সরকারবিরোধী আন্দোলনে ফেটে পড়বে। কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও বিভিন্ন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পরিস্থিতি উল্টো। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেনির মৃত্যুর পর প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, রমজান মাসে হামলা ও ধর্মীয় আবেগের প্রেক্ষাপটে ‘র‍্যালি অ্যারাউন্ড দ্য ফ্ল্যাগ’ প্রভাব স্পষ্ট হচ্ছে।

কোমের জামকারান মসজিদে লাল পতাকা উত্তোলন এবং তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে কালো পোশাকে মিছিল ইরানের অভ্যন্তরে প্রতিশোধস্পৃহা ও জাতীয়তাবাদী আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের আইআরজিসি পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিন সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় ডেমোক্র্যাটদের একাংশ ইমপিচমেন্টের কথাও তুলছেন। সমালোচকদের মতে, যদি প্রমাণিত হয় যে হামলার যৌক্তিকতা দুর্বল ছিল, তবে ট্রাম্পকে ঘরে-বাইরে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনি চাপে পড়তে হবে।

কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র নীরবে যুদ্ধবিরতির পথ খুঁজছে। তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন ছাড়া তারা যুদ্ধবিরতির কথা ভাববে না। ফলে পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত ক্ষমতার পালাবদলের আশায় যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, তা এখন সামরিক, কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে জটিল সংকটে রূপ নিচ্ছে। আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।

(ঢাকাটাইমস/৪ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা