যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণ-রুপার দাম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক মূল্যবান ধাতুর বাজারেও। অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উদ্বেগের মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২৩১ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪২ দশমিক ১০ ডলারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল মার্কিন ডলার এবং মুদ্রাস্ফীতি কমার আশঙ্কা স্বর্ণের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। ডলার সূচক কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে, ফলে বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
এদিকে তেলের দাম হঠাৎ কমে যাওয়াও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত শেষ হতে পারে। তার এই মন্তব্যে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
টিডি সিকিউরিটিজের গ্লোবাল কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান বার্ট মেলেক বলেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থেকে কিছুটা কমলেও তা এখনও মুদ্রাস্ফীতিকে সহায়তা করছে। তবে এটি এত বেশি নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সক্ষমতা সীমিত করবে। এতে বিনিয়োগকারীরা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে আগ্রহী হচ্ছেন।
সাধারণত স্বর্ণকে মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে এর আকর্ষণ কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা আয় পাওয়া যায় না।
বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) এবং পার্সোনাল কনজিউমশন এক্সপেনডিচারস (পিসিই) তথ্য প্রকাশের দিকে নজর রাখছেন। আগামী ১৭–১৮ মার্চের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখতে পারে বলে বাজারে ধারণা রয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে ফ্লাইট সীমাবদ্ধতা থাকায় দুবাইয়ে স্বর্ণ লন্ডনের তুলনায় কিছুটা ডিসকাউন্টে লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেশি থাকলেও চাহিদা তুলনামূলক কম রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৯ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২২৯ দশমিক ১৫ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৭৫ দশমিক ৫০ ডলারে নেমেছে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সোনার দাম বাড়ানোর সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/১১ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































