নবম পে-স্কেল পর্যালোচনায় সরকার, সংসদের অধিবেশন ঘিরে বাড়ছে আশা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনও প্রস্তাবনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকার নীতিগতভাবে ইতিবাচক থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নবম-পে স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে সরকারি চাকরিজীবীরা দ্রুত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এদিকে পে স্কেল সংক্রান্ত প্রস্তাব পুনরায় পর্যালোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি আসন্ন জাতীয় সংসদ-এর অধিবেশনে আলোচনায় উঠতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ সকাল ১১টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কমিশনের সব সুপারিশ একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার চিন্তাভাবনা রয়েছে সরকারের।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান এবং পে কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান। সরকারি সূচিতে তিনি পিকেএসএফ চেয়ারম্যান হিসেবে সাক্ষাৎ করলেও বৈঠকে পে কমিশনের প্রতিবেদন ও সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ জানান, পে-স্কেল সংক্রান্ত সুপারিশগুলো ভালোভাবে পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কতটুকু এবং কখন বাস্তবায়ন করা সম্ভব, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছর ২০২৬–২৭ থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের একটি প্রস্তাব রয়েছে। তবে সরকারের আর্থিক সংকট, রাজস্ব ঘাটতি এবং মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ জুলাই ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। সাবেক অর্থ সচিব ও পিকেএসএফ চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানকে কমিশনের প্রধান করা হয়েছিল। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের সুপারিশসহ প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দেয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











