ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালীতে সহায়তার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১
অ- অ+

বর্তমানে হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলর সাথে ইরান যুদ্ধ ও লোহিত সাগরে অস্থিরতার কারণে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এমতাবস্থায় বিশ্বের ছয়টি প্রভাবশালী দেশ বৃহস্পতিবার জানায়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেকোনো উদ্যোগ কেবল যুদ্ধবিরতির পর কার্যকর হবে।

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান ও নেদারল্যান্ডস যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতার আন্তর্জাতিক আইনি অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছে।

ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা এখনই কোনো সামরিক সহায়তা পাঠাবে না; বরং যুদ্ধবিরতির পর সম্ভাব্য বহুপাক্ষিক উদ্যোগের জন্য পরিকল্পনা করছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো বলেন, “যুদ্ধবিরতি এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বহুপাক্ষিক উদ্যোগ ছাড়া হরমুজ প্রণালীতে কোনো অভিযান নয়।”

জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াস জানান, জার্মানির সামরিক অংশগ্রহণ যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক ম্যান্ডেটের ওপর নির্ভর করবে এবং পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, তার দেশ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যায়।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অন্যান্য বিশ্বশক্তি ও ন্যাটোকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালুর জন্য সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে চলমান সংঘাতের কারণে তাৎক্ষণিক সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, যদিও দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা ও পরিকল্পনার পথ খোলা রাখা হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে স্বাভাবিক সময় বিশ্বের অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। ইরানের সাম্প্রতিক হামলার কারণে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি খুব সরু একটি নীল রেখা। এর সবচেয়ে সরু অংশটি মাত্র ৩৩ কিলোমিটার চওড়া। মূলত এই প্রণালিটি দুটি উপসাগরের সংযোগস্থল। শুনতে অবাক লাগলেও এই সরু জলপথটির ওপরই নির্ভর করে টিকে আছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি অর্থনীতি। প্রণালিটি তেলসমৃদ্ধ পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যা আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।

(ঢাকাটাইমস/২০ মার্চ/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা