জুলাই হত্যা মামলা
ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ে সংগঠিত হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের— ডিজিএফআই সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী। অন্যদিকে আসামিপক্ষে রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান পাখি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি এলাকায় আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর এজাহারভুক্ত আসামিসহ ৫০০ থেকে ৭০০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালায়। হামলাকারীরা বিভিন্ন দিক থেকে গুলি ছোড়ে। এতে দেলোয়ার হোসেন গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন।
আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
এদিকে গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, ২০০৭-০৮ সালের এক–এগারোর সময় তার ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসন–সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ ও তার স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পর আদালত এই আদেশ দেন। দুদক তখন তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদ–সংক্রান্ত অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানিয়েছিল।
শেখ মামুন খালেদ ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি সংস্থাটির কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন।
এক–এগারোর সময়ের আরেক আলোচিত ব্যক্তি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকেও গত সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করা, ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরির অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প থেকে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ, কথিত ‘আয়না ঘর’–এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































