ইরানের পর কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান ও ভেনিজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর কিউবা হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী লক্ষ্য। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সৌদি আরবের ব্যবসায়িক সম্মেলন ‘ফিউচার ইনভেস্টমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’-এ দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন।
ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশাল সামরিক বাহিনী গঠন করেছি, এটি ব্যবহার করতে হয় না, তবে প্রয়োজন পড়লে ব্যবহার করা হয়; এরপর কিউবা হবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য।” বক্তব্যের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে তা এড়িয়ে যেতে অনুরোধ করেন।
কিউবার সরকার ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কসিও রবিবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “বিশ্বজুড়ে যা ঘটছে তা দেখার পর হাত গুটিয়ে বসে থাকা বোকামি হবে; তাই আমাদের সামরিক বাহিনী সর্বদা প্রস্তুত, এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি আরও বাড়ানো হয়েছে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতার প্রশ্ন তোলেন।
এদিকে, মার্কো রুবিও কিউবার অভ্যন্তরীণ সংকটের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, দেশটির বর্তমান নেতৃত্ব বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জ্বালানি সংকট সমাধানে অক্ষম, তাই নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন। রুবিওর মতে, কিউবার অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছে এবং তা সংস্কারের জন্য সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য কেবল কল্পিত হুমকি নয়, কারণ তার ভেনিজুয়েলা ও ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থানের অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিউবার জ্বালানি সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ বা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা চলছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘পরবর্তী লক্ষ্য’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যের পর ল্যাটিন আমেরিকায় নতুন অস্থিরতার সূচনা করতে পারে। কিউবা সরকার ইতিমধ্যে জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে সম্ভাব্য যেকোনো বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/২৮ মার্চ/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































