স্বর্ণের দামে বড় পতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৮
অ- অ+

ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের ইঙ্গিত দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এতে দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে হঠাৎ করেই নিচে নেমে এসেছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক শতাংশের বেশি কমে প্রতি আউন্স ,৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে শতাংশের বেশি পতনের পর টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও থেমে যায়। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচার দশমিক শতাংশ কমে ,৬৪৯ ডলারে নেমেছে।

এর আগে প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরও আগ্রাসী হামলা চালাবে এবং এই সংঘাতে তাদের প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এতে যুদ্ধবিরতির আশায় থাকা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য এবং পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা সরাসরি স্বর্ণবাজারে প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাপিটাল ডট কমের সিনিয়র বিশ্লেষক কাইল রড্ডা জানান, তেলের দাম, মার্কিন ডলার এবং সুদের হার একসঙ্গে বাড়ায় স্বর্ণের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড এবং ডলার সূচক বৃদ্ধির ফলে ডলার-নির্ভর স্বর্ণ আরও চাপে পড়েছে। একই সঙ্গে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিতের পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম শতাংশের বেশি বেড়ে সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরান সংঘাত শুরুর পর মার্চ মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৮ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতন। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা আবারও জোরালো হয়েছে, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি আরও জটিল করে তুলছে।

এখন ২০২৬ সালের বেশিরভাগ সময়জুড়েই যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা কম দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের আগে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ২৫ শতাংশ থাকলেও এখন তা কমে ১২ শতাংশে নেমে এসেছে।

সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় স্বর্ণের দাম বাড়ে। তবে উচ্চ সুদের হার এই অনুৎপাদনশীল সম্পদ ধরে রাখার খরচ বাড়িয়ে দিয়ে এর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

এদিকে টানা দুই মাস পর প্রথমবারের মতো ভারতে স্বর্ণ প্রিমিয়ামে লেনদেন হয়েছে, কারণ দাম কমায় চাহিদা বেড়েছে। অন্যদিকে চীনে প্রিমিয়াম কিছুটা কমেছে, কারণ ক্রেতারা আরও কম দামের অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।

এর আগে সবশেষ গত এপ্রিল সকালে দেয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশে স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম কার্যকর হয়েছে সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি লাখ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে অন্যান্য ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভারের দাম শতাংশের বেশি কমে ৭১ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম দশমিক শতাংশ কমে হাজার ৯০২ দশমিক ৬৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম দশমিক শতাংশ কমে হাজার ৪৪৬ দশমিক ৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা