যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ‘কালো দিন’: একদিনে ২ যুদ্ধবিমানসহ একাধিক আকাশযানে ইরানের হামলা

ইরান যুদ্ধের ৩৫তম দিনে দেশটির আকাশসীমায় বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক আকাশযান লক্ষ্য করে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দিনটিকে ‘মার্কিন-ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কালো দিন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্বনির্ধারিত ছুটি বাতিল করে ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার এক বিবৃতিতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তারা অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান, পাঁচটি ড্রোন ও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, খোমেইন ও জানজান প্রদেশের আকাশে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইসফাহানে দুটি ‘এমকিউ-৯’ ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া বুশেহরে একটি ‘হার্মিস’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান।
প্রাথমিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এসব ক্ষয়ক্ষতির কথা অস্বীকার করলেও পরে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ও ইসরায়েলি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অন্তত একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এফ-১৫ই’ (F-15E) যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে থাকা দুই ক্রুর একজনকে উদ্ধার করা হলেও অন্যজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
একই দিনে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এ ঘটনায়ও একজন ক্রু নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ সেনাসদস্যদের উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানের সময় দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হেলিকপ্টারগুলো বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়াই অভিযান চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটদের জীবিত আটক করে দিতে পারলে সাধারণ নাগরিকদের পুরস্কৃত করা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে পুরো ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত না করলেও কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৯ মার্চ ইরান প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘এফ-৩৫ লাইটনিং ২’ স্টিলথ যুদ্ধবিমানে আঘাত হানার দাবি করেছিল। আইআরজিসি জানায়, ‘মজিদ’ ইনফ্রারেড-গাইডেড সিস্টেম ব্যবহার করে এই সক্ষমতা অর্জন করা হয়েছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও নজরদারি ব্যবস্থার কারণে দেশটির আকাশসীমা শত্রুপক্ষের জন্য ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
(ঢাকাটাইমস/৪ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































