আলোচনা ব্যর্থ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এখন কঠিন ৩ পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৬
অ- অ+

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার দিকে মোড় নিয়েছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, পুনরায় যুদ্ধ শুরু করাযা ইতোমধ্যেই আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে। তৃতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ সংঘাতে জড়িয়ে পড়া।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন।

এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আমাদের রেডলাইন স্পষ্ট করেছি এবং কোথায় ছাড় দিতে পারি তাও জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমাদের শর্ত মানতে রাজি নয়।একই সুরে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, ইরানের উচিত সহজভাবে ‘আত্মসমর্পণকরা।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বারাক ওবামা-এর আমলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে শেষ বড় পারমাণবিক চুক্তি হতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল। সেই চুক্তিতে ইরানকে সীমিত পরিমাণ ইউরেনিয়াম মজুদের অনুমতি দেওয়া হয়।

বর্তমান সংকটের মূল কারণ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যু। ইরান বলছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির স্বাক্ষরকারী হিসেবে নিজেদের ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা তাদের অধিকার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই অবস্থানই প্রমাণ করে ইরান ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা ধরে রাখতে চায়।

৪০ দিনের সংঘর্ষে দুই পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমাদের মানুষের ক্ষতি আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও অধিকার রক্ষার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

বর্তমানে উভয় পক্ষই নিজেদের প্রথম দফার বিজয় দাবি করছে, ফলে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২১ এপ্রিল। এর পর পরিস্থিতি আবার সংঘর্ষের দিকে গড়াতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে এর বৈশ্বিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চেয়ারম্যানসহ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক
রাত ২টায় মুখোমুখি হচ্ছে নেদারল্যান্ডস-জাপান
বিমানবন্দর না, শপিংমল থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
৮০তে পা রাখলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা