রাঙ্গাবালীতে রাতের আঁধারে দ্বিগুণ দামে জ্বালানি তেল বিক্রি, ভোগান্তিতে জনজীবন

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের সরাসরি অভিঘাত পড়েছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে। সেখানে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট এখন জনজীবনকে ঠেলে দিয়েছে চরম দুর্ভোগে। এই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট রাতের আঁধারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে জ্বালানি তেল- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিনের বেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে রাতের আঁধারে প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি করছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলায় এখনো কোনো ফিলিং স্টেশন গড়ে না ওঠায় খুচরা বাজারই জ্বালানির একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেই বাজারেও নেই জ্বালানি। ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা, যারা এই দ্বীপ অঞ্চলের যাতায়াত মাধ্যমের প্রধান চালিকাশক্তি।
চালকদের অভিযোগ, দিনে “তেল নেই” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হলেও রাতে গোপনে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এমনকি কিছু ব্যক্তি নিজ বাড়িতে মজুত করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করছেন। এতে বাধ্য হয়ে পরিবহন ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে, যার বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।
অন্যদিকে খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ডিপো ও ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ সংকটের কারণেই তারা চাহিদা মেটাতে পারছেন না।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাতে। মোটরসাইকেলের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বেড়েছে অন্তত ৫০ টাকা। চালকদের ভাষ্য, উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হওয়ায় ভাড়া বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
একই চিত্র দেখা যাচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রেও। বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ভাড়া দ্বিগুণ বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে চালকদের বিরুদ্ধে।
ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের চালক রিয়াদ সিকদার বলেন, “এক মাসের বেশি সময় ধরে দিনের বেলায় কোনো দোকানেই পেট্রোল পাই না। কিন্তু রাতে ঠিকই পাওয়া যায়—তাও গোপনে, দ্বিগুণ দামে। ফিলিং স্টেশন না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের তেমন কোনো কার্যকর নজরদারি নেই।”
কোরালিয়ার মৎস্যজেলে ট্রলার মালিক বেল্লাল বলেন, “জ্বালানির দাম দ্বিগুণ, তাও পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় সাগরে গেলে লোকসান হবে। তাই বাধ্য হয়ে বসে আছি, পরিবার নিয়ে কষ্টে দিন কাটছে। এখানে একটি ফিলিং স্টেশন স্থাপন এখন জরুরি।”
এদিকে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বাজারে কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। দ্রুত কৃত্রিম সংকট বন্ধ, ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সংকট মোকাবিলায় পার্শ্ববর্তী গলাচিপা উপজেলা থেকে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। (ঢাকাটাইমস/১২এপ্রিল/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































