ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, বন্ধু থেকে শত্রু: অশান্তির পথে বিশ্ব

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘ সাত দশক ধরে টানাপোড়েন, শত্রুতা ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক আধিপত্য এবং সামরিক হুমকি এই সম্পর্কের মূল ইস্যু। একটা সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু ছিল ইরান৷ সেখান থেকে চিরশত্রুতায় রূপ নিয়েছে তাদের সম্পর্ক৷ কিন্তু কীভাবে এই মেরুকরণ ঘটল? ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বর্তমান বৈরিতা হঠাৎ তৈরি হয়নি; এটি ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। একসময় যেখানে ইরান ছিল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র, সেখান থেকে আজকের শত্রুতার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘিরে। শীতল যুদ্ধের সময় ইরান ছিল যুক্তরাষ্ট্র-এর অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। তখন দেশটি শাসন করতেন শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে সহায়তা দিত, কারণ সোভিয়েত প্রভাব ঠেকাতে ইরান ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের একটি বড় ঘটনা হলো ১৯৫৩ সালের অভ্যুত্থান, যেখানে মোহাম্মদ মোসাদ্দেক-কে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। পশ্চিমা শক্তির সমর্থনে এই অভ্যুত্থান ইরানের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবের বীজ বপন করে।
১৯৫১ সালে ইরানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মোহাম্মদ মোসাদ্দেক৷ তিনি ব্রিটিশদের কাছ থেকে দেশটির তেল সম্পদ জাতীয়করণ করেন৷ ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এমআই সিক্স এবং এবং মার্কিন সিআইএ ক্যু ঘটিয়ে মোসাদ্দেককে উৎখাত করে৷ মোসাদ্দেকের পতনের পর ক্ষমতায় ফেরেন ইরানের নির্বাসিত শেষ সম্রাট শাহ রেজা পাহলভি৷ পরবর্তী দুই দশক ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে মার্কিন অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতায় পরিণত হয় পারস্য উপসাগরের দেশটি৷ যুক্তরাষ্ট্রের কোন অনুরোধই এসময় ফেলেননি শাহ, এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার৷
শাহের আমলে ইরানের তেল ব্যবসায় প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রিটিশ ও আমেরিকান কোম্পানিগুলোর৷ কিন্তু ইরানি জনগণের মধ্যে রাজতন্ত্রবিরোধী ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে৷ ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন রেজা শাহ পাহলভি৷ দুই সপ্তাহ পর দেশে ফেরেন নির্বাসিত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লা খোমেনি৷ তিনি ইরানের ‘ইসলামি বিপ্লবের’ নেতৃত্ব দেন৷ কিছুদিনের মধ্যেই দেশটির ছাত্ররা তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে৷ ৪৪৪ দিনের জন্য বন্দী হয় ৫২ আমেরিকান৷ বন্দী সঙ্কটের সমাধান না হওয়ায় ইরানের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার৷ দেশটিতে মার্কিন পণ্য রপ্তানি ও তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়৷ জব্দ করা হয় ইরানের ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ৷ বের করে দেয়া কূটনীতিকদের৷
এর এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ইরান আক্রমণ করে সাদ্দাম হোসেন৷ যুদ্ধ চলাকালে ইরাককে গোয়েন্দা প্রতিবেদন, অর্থ, সামরিক প্রযুক্তি এমনকি রাসায়নিক অস্ত্রও সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র৷ এই যুদ্ধ চলে আট বছর৷ এসময় লেবাননে ইরানের সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর হামলায় বৈরুতের একটি ব্যারাকে ২৪৪ মার্কিন সৈন্য নিহত হয়৷
১৯৮৮ সালে পারস্য উপসাগরে ইরানের একটি যাত্রিবাহী বিমানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র৷ নিহত হয় ইরানের ২৯০ জন যাত্রী৷ একে দুর্ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান৷ এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক আরও তিক্ততায় রূপ নেয়৷
ইরান সন্ত্রাসীদের মদত দেয়ার পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে, এমন অভিযোগে দেশটিকে একঘরে করার জন্য প্রচার চালায় ক্লিনটন প্রশাসন৷ ১৯৯৬ সালে বিদেশি কোম্পানিগুলোর ইরানে বিনিয়োগের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয় ওয়াশিংটন৷ ১৯৯৮ থেকে পরবর্তী দুই বছর মোহাম্মদ খাতামি সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহ প্রকাশ করে ক্লিনটন প্রশাসন৷ এজন্য রোডম্যাপও ঘোষণা করা হয়৷ খাতামি দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রস্তাব দেন৷ ২০০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পণ্য আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়৷
২০০৫ সালে আহমদিনেজাদের শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের আবারও অবনতি ঘটে৷ ইরান এসময় পরমাণু কার্যক্রম শুরু করে৷ বুশ ইরানকে সন্ত্রাসের রপ্তানিকারক হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে৷ তবে ২০১৫ সালে ওবামা যুক্তরাষ্ট্র ও জোট রাষ্ট্রগুলোর সাথে ইরানের পরমাণু কার্যক্রম স্থগিতকরণ চুক্তি করায় বৈরিতার সেই বরফ কিছুটা গলে৷
২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে পরমানু চুক্তি বাতিল করে ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ ইরানের উপর চাপ প্রয়োগ করতে নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে ওয়াশিংটন৷ দুই দেশের প্রক্সি ওয়ার অনেকটাই যুদ্ধাবস্থায় রূপ নিয়েছে চলতি বছরের তিন জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর৷
২০২০: বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত। পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইরান মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়।
২০২৫: মার্কিন পারমাণবিক চুক্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইরান। জুনে ইসরায়েল তেহরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত।
ইউনিভার্সিটি অব রিডিং-এর আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মার্কো মিলানোভিচ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই ধরনের হামলা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন, যা একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করে। বৈধ আত্মরক্ষার শর্ত এখানে পূরণ হয়নি।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুমকি দিয়েছে, তারা দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ‘ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করবে।
ইরানের সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খামেনি ইতিহাসের ‘নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ ছিলেন এবং এই অভিযান নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করা হিতে বিপরীত হতে পারে এবং ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হতে পারে।
দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে হামলায় অন্তত ৬৩ কন্যাশিশু নিহত হয়েছেন, বয়স ৭–১২ বছরের মধ্যে।
গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একাধিক হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ বলে মন্তব্য করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। গত জুনের হামলাসহ এসব পদক্ষেপকে তারা আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি অব রিডিং স্কুল অ্যান্ড ল-এর আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক মার্কো মিলানোভিচ এবং এ বিষয়ে ব্যাপকভাবে লিখেছেন, তিনি বলেন যে সেই অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত।
তিনি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এই হামলাগুলো স্পষ্টতই অবৈধ, কারণ এগুলো জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন, যা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধুমাত্র আত্মরক্ষার যুক্তিই এমন হামলার একমাত্র সম্ভাব্য ব্যতিক্রম হতে পারে, কিন্তু বৈধ আত্মরক্ষার শর্ত এখানে পূরণ হয়নি।’
ইরানে দেশব্যাপী গত ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে নিহত হয়েছে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪২৭ জনকে ‘শহীদ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বিক্ষোভের সময় নিহত সাধারণ নাগরিকরা রয়েছেন। অন্যদিকে, ৬৯০ জনকে ‘সন্ত্রাসী’ ও ‘দাঙ্গাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারি এই হিসাবকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। নরওয়ে ভিত্তিক সংস্থা ‘ইরান হিউম্যান রাইটস’ দাবি করেছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী প্রকৃত নিহতের সংখ্যা ২৫ হাজারেরও বেশি হতে পারে। সংস্থাটির অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং কঠোর দমন-পীড়নের কারণে প্রকৃত হতাহতের তথ্য আড়াল হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছে। কিছু ক্ষেত্রে বাড়ির ছাদ থেকে গুলি চালানো এবং সরাসরি চোখে গুলি করার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা দাবি করেছে।
গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে রাজনৈতিক রূপ নেয়। পরবর্তীতে এটি ক্ষমতাসীন ধর্মীয় নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘট ও গণমিছিলের রূপ ধারণ করে। ৮ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ হিসেবে ভস্মীভূত যানবাহনসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শন করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে নতুন করে সহিংসতা শুরু হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে।এরপর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের হামলায় নিহত হওয়ার পরে এখন মধ্যপ্রাচ্যের নানা দিকে ছড়িয়ে পড়েছে সংঘর্ষ। মি. খামেনিকে হামলা চালিয়ে নিহত করার পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা নিজেদের দেশের সরকারকে উৎখাত করে।
ইরানও জবাবি হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডন, সৌদি আরব, সাইপ্রাসের ওপরে ক্ষেপণাস্ত্র আর ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করা জাহাজেও হামলা করেছে ইরান।
ইরান সমর্থিত লেবাননের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবুল্লাহও সংঘর্ষে যোগ দিয়ে লেবাননের অভ্যন্তরে তাদের ঘাঁটিগুলো থেকে ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপ করছে। আবার তার জবাবে ইসরায়েলও লেবাননে হেজবুল্লাহর ঘাঁটিগুলোর ওপরে হামলা করেছে।
এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হচ্ছে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বাধল, তার কী প্রভাব পড়বে, আর কতদিনই বা চলতে পারে এই যুদ্ধ?
যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েল গত শনিবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো, সামরিক স্থাপনা আর শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরে ব্যাপক হামলা শুরু করে।
প্রথম দফার হামলাতেই আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির পরিসরটি মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়, নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা।
চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালী ঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়েছে।
বিভিন্ন দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, স্থগিত হয়েছে অসংখ্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, এই সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সময়সীমা আরও বাড়ানো হবে। একইভাবে নেতানিয়াহুও বলেছেন, “যতদিন প্রয়োজন, ততদিন অভিযান চলবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল তিন দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আঞ্চলিক মিত্রদের সম্পৃক্ততার কারণে এটি বৃহত্তর যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্য এক অনিশ্চিত ও অস্থির ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ সংকুচিত হয়ে আসছে, আর সামরিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে—যা বিশ্ব শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ব্যাপক প্রাণহানির তথ্য প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থা ইরান শহীদ ও ভেটেরানবিষয়ক ফাউন্ডেশন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) জানানো হয়, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট ৩ হাজার ৪৬৮ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইরানে দেশব্যাপী শুরু হওয়া সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে নিহত হয়েছে মোট ৩ হাজার ১১৭ জন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে চলমান অস্থিরতার মধ্যে এটিকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমান বিশ্বে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাতের আগুন, হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতি বড় ঝুঁকির মুখে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানসহ পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্ব এবং যুদ্ধাবস্থা বিশ্বকে এক অন্তহীন অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা বিশ্বশান্তির জন্য বড় উদ্বেগ।(ঢাকাটাইমস/২০ এপ্রিল/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













