তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে দ্রুত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ: ফরহাদ হোসেন আজাদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৫৭
অ- অ+

তিস্তা অববাহিকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস এবং এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। সমীক্ষার ফলাফল, কারিগরি দিক এবং এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ে উপযোগী প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর খাল এবং কুলাঘাট ইউনিয়নে ধরলা নদীর তীরবর্তী ওয়াপদা বাঁধ এলাকা পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে তিনি এসব স্থান পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী প্রথমে মহেন্দ্রনগর খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে ধরলা নদীর ভাঙন থেকে লালমনিরহাট সদর উপজেলা শহর ও জনপদ রক্ষায় সদ্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পাওয়া ২৯৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ধরলা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের সম্ভাব্য উদ্বোধনস্থল পরিদর্শন করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী প্রকল্পের কাজ যথাযথ মান বজায় রেখে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ধরলা নদীর ভাঙন থেকে লালমনিরহাটের জনপদ, মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙনজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, নদীভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ। নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় পরিকল্পিত তীর সংরক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙনের ঝুঁকি কমানো এবং জনপদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসরণ করে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘমেয়াদে পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, নদী ব্যবস্থাপনা ও তীর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন, এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং নদীর গতিপ্রকৃতি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। টেকসই পরিকল্পনার মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো গেলে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা বাড়বে এবং কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ পরিকল্পনা নিয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে, যাতে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর প্রকল্প গ্রহণ করা যায়।

তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং নদীকেন্দ্রিক সমস্যার টেকসই সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতামত, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনকালে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
চট্টগ্রামে বাসা থেকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার
কোটা জালিয়াতির অভিযোগ, তিন উপসচিব ওএসডি
সৌদি আরবের হয়ে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান?
বারিধারায় গাড়িচাপায় শ্রমিক নিহতের ঘটনায় সেই কিশোরের জামিন