ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে জাতীয় ঈদগাহে জনস্রোত

ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত দেশের প্রধান ঈদের জামাতে অংশ নিতে ভোর থেকেই মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জাতীয় ঈদগাহ এলাকায় দলে দলে মুসল্লিদের আসতে দেখা যায়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তারা ঈদগাহে প্রবেশ করেন। জাতীয় প্রেসক্লাব, মৎস্য ভবন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিভিন্ন প্রবেশপথে ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি।
সরেজমিনে দেখা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে মুসল্লিদের ভেতরে প্রবেশ করাচ্ছেন। ধীরে ধীরে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে পুরো ঈদগাহ ময়দান।
ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিতে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আবার কেউ একাই এসেছেন জাতীয় ঈদগাহে।
নামাজে আসা সাইফুজ্জামান নামের একজন বলেন, “প্রতি বছরই চেষ্টা করি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করতে। হাজারো মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে নামাজ পড়ার অনুভূতি সত্যিই অন্যরকম।”
বংশাল থেকে ছোট ছেলেকে নিয়ে আসা আল আমিন বলেন, “ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে ঈদগাহে আসতাম। এখন নিজের ছেলেকে নিয়ে এসে সেই একই অনুভূতি পাচ্ছি। চাই, সেও এই বড় জামাতের পরিবেশটা অনুভব করুক।”
এদিন সকাল থেকেই ধর্মীয় আবহ, নিরাপত্তা ও মিলনমেলার পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জাতীয় ঈদগাহ এলাকা। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়েছেন। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জামাতে অংশ নেন।
প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। বিকল্প ইমাম হিসেবে ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রায় ৩৩ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এই ঈদগাহে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। প্রয়োজন হলে আশপাশের সড়কেও নামাজ আদায়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এছাড়া মুসল্লিদের সুবিধার্থে অজু, বিশুদ্ধ পানি, শৌচাগার, চিকিৎসাসেবা, ফ্যান ও আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































