কোরবানির বাজারে ধস: প্রায় ২৩ লাখ পশু অবিক্রীত, ক্ষতিতে খামারিরা

দেশে চলতি বছরের ঈদুল আজহার কোরবানির মৌসুম শেষে হাটগুলোতে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পশু অবিক্রির চাপ। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু এবার বিক্রি হয়নি বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার। এর মধ্যে ১ কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পশু অবিক্রীত থেকে যায়, যা খামারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে খামারিরা। রাজধানীর গাবতলী পশুর হাট, কমলাপুর এবং দিয়াবাড়ীসহ দেশের বিভিন্ন হাটে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বড় আকারের গরুর সারি পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ক্রেতার অভাবে অনেক খামারি ও ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে লোকসানে পশু বিক্রি করেছেন, আবার অনেকে অবিক্রীত গরু ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে গাবতলী হাটে ৫০টি গরু নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তিনি মাত্র ১৮টি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি গরু ফেরত নিতে হয়েছে। তার ভাষায়, “এবার আমরা গরুর সঙ্গে নিজেরাও কোরবানি হয়ে গেছি।”
অন্যদিকে বগুড়া সদর থেকে ২৫টি গরু নিয়ে আসা খামারি মাহবুব হোসেন বলেন, বড় গরুর উৎপাদন খরচ বেশি হলেও বাজারে দাম সে অনুপাতে না পাওয়ায় তিনি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
খামারি ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, বড় গরুর চাহিদা কমে যাওয়া এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের কারণে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও কাদাময় হাট পরিস্থিতিও বিক্রিতে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে তারা জানান।
বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর সিনিয়র সহসভাপতি নিলয় হোসেন বলেন, বর্তমানে বড় গরুর বাজার প্রায় ভেঙে পড়ার মতো অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, দেশের ৯৮ শতাংশ কোরবানি হয় ছোট গরু দিয়ে, ফলে বড় গরু উৎপাদনকারী খামারিরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এ বিষয়ে মো. শাহজামান খান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক বলেন, কোরবানির চূড়ান্ত পশু হিসাব এখনো প্রস্তুত হয়নি। মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং চূড়ান্ত সংখ্যা পরে জানানো হবে।
চলতি বছরের পরিস্থিতিতে বড় গরুর উৎপাদনকারী খামারিদের মধ্যে আর্থিক ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন পরিকল্পনা এবং আমদানি ব্যবস্থাপনা আরও সমন্বিত না হলে এ ধরনের হতাশা ভবিষ্যতেও দেখা দিতে পারে।
(ঢাকাটাইমস/৩০ মে/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











































