রোদে বের হলেই শরীরের রক্ত ঝরে, পানিতে কাটে ১০ বছরের আবু বকরের দিন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৩
অ- অ+

অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলা কিংবা স্কুলে যাওয়ার সুযোগ নেই ১০ বছরের আবু বকরের। সামান্য রোদে বের হলেই শরীরের চামড়া শুকিয়ে ফেটে রক্ত বের হয়। অসহনীয় জ্বালাপোড়া থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে দিনের বেশির ভাগ সময়ই তাকে পানিতে কাটাতে হয়। বিরল বংশগত চর্মরোগ ইকথিওসিসে আক্রান্ত এই শিশুর চিকিৎসার জন্য এখন সমাজের মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করছে তার পরিবার।

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু বকর জন্মের পর থেকেই ইকথিওসিস রোগে আক্রান্ত। পরিবারের দাবি, সন্তানের এমন শারীরিক অবস্থার পর তার বাবা স্ত্রী আলেয়া খাতুনকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর গত ১০ বছর ধরে সন্তান কিংবা সাবেক স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি তিনি। একমাত্র সন্তানকে নিয়ে চরম কষ্টে জীবনযাপন করছেন আলেয়া খাতুন।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, আবু বকরের প্রতিটি দিন শুরু হয় পানিতে নেমে, শেষও হয় পানিতেই। শরীরে সামান্য রোদ বা গরম লাগলেই তার ত্বক শুকিয়ে ফেটে যায়, শুরু হয় তীব্র জ্বালাপোড়া। অনেক সময় চামড়া ফেটে রক্তও বের হয়। তাই কিছুটা আরাম পেতে দিনের অধিকাংশ সময় তাকে পানিতে থাকতে হয়।

আবু বকর জানায়, রোদে বের হলেই তার শরীর জ্বলে যায়। সে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করতে পারে না, বন্ধুদের সঙ্গে মিশতেও কষ্ট হয়। তবুও অন্য শিশুদের মতো সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করার স্বপ্ন দেখে সে।

আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মা আলেয়া খাতুন বলেন, ছেলের জন্মের পর চিকিৎসকেরা জানান, সে বিরল চর্মরোগে আক্রান্ত। এরপরই তার স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। বর্তমানে মানুষের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ এবং একটি স্থানীয় মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করে সামান্য যে আয় হয়, তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চলে। ছেলের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।

প্রতিবেশী খাদিজা বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেটি অসহনীয় কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। রোগ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকেই তাকে এড়িয়ে চলেন। অথচ তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও চিকিৎসাসহায়তা।

অলিপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, আলেয়া খাতুন অত্যন্ত পরিশ্রমী। কিন্তু তার সামান্য আয়ে সন্তানের চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে শিশুটির সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সামিউল ইসলাম রনি জানান, ইকথিওসিস একটি বিরল বংশগত চর্মরোগ। এ রোগে ত্বক অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে বারবার ফেটে যায় এবং তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি হয়। রোগটি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য না হলেও নিয়মিত চিকিৎসা, বিশেষ ধরনের ময়েশ্চারাইজার, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে রোগীর কষ্ট অনেকটাই কমানো সম্ভব।

উল্লাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি তার মাকে সরকারি ভাতা কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অভাব আর অসুস্থতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই পরিবারের একমাত্র আশা এখন সমাজের মানবিক মানুষ। কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে ছোট্ট আবু বকর। সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা যাবে ০১৩৪৪৪৭৮৯৭৪ (বিকাশ) নম্বরে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
গণভোট না মানলে সরকারও মানা হবে না: জামায়াত আমির
৫ মাসে সব মন্ত্রণালয়েই সফলতা এসেছে: মাহদী আমিন
বাংলাদেশে উচ্চগতির রেল আনতে আগ্রহী চীন
মবের শাসনের বদলে আইনের শাসনে ফিরতে হবে: সাইফুল হক
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা