খানজাহান আলীর মাজারের সেই দিঘির কুমিরটিকে সরানো হলো সুন্দরবনে

বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘির কুমিরটিকে সরানো হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১২টর দিকে কুমিরটিকে ধরে বনবিভাগের কর্মীরা।
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে দীর্ঘ ২২ বছর ধরে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি দুটি প্রাণঘাতী ঘটনার পর মাজারে আগত দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) দিনগত রাত ১০টায় জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিঘির কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, কুমির স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩ জুন খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞ দল বাগেরহাটে আসবে। তারা কুমিরটি ধরার কৌশল ও স্থানান্তরের সময় নির্ধারণ করবেন।
গত ১ জুন রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে ৭ বছরের শিশু ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে প্রাণ হারায়। এর আগে ৮ এপ্রিল দিঘি থেকে একটি কুকুরকে কুমির টেনে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরবর্তীতে জরুরি সভায় কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের দিঘিতে প্রায় ৬০০ বছর ধরে কুমির বিচরণ করে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে খান জাহান আলী (র.) মাজারের দিঘির সঙ্গে কুমিরের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। জনশ্রুতি অনুযায়ী, হজরত খান জাহান আলী (রহ.) নিজেই দিঘিটি খনন করেছিলেন এবং সেখানে ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে এক জোড়া কুমির ছেড়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের বংশধররাই দীর্ঘদিন ধরে ওই দিঘিতে বসবাস করে আসছে। তবে মূল বংশের শেষ কুমিরটি ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারা যায়।
স্থানীয়দের দাবি, মাজারের দিঘির কুমির দর্শনার্থীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এর স্থানান্তরকে অনিবার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(ঢাকাটাইমস/৩ জুন/আরজেড)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































