রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব, বললেন আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০২৬, ১৩:৪১
অ- অ+

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার রায় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই মামলাটির পুরো বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।

আজ রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও বিচার বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, “আজ যে ফাস্ট ট্র্যাকে রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে, তা সরকার একা করেনি। প্রধান বিচারপতি যদি ১৫ জুন পর্যন্ত বিচারপতিদের ছুটি বাতিল না করতেন, তাহলে এ ধরনের দ্রুত বিচার সম্ভব হতো না।”

তিন মাসে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, এক সপ্তাহের মধ্যে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছালে পরবর্তী সপ্তাহ থেকেই পেপার বুক প্রস্তুতের কাজ শুরু করা যাবে। ১৫ দিনের মধ্যে পেপার বুক সম্পন্ন হলে বিশেষ বিবেচনায় দ্রুত শুনানির জন্য মামলাটি উপস্থাপন করা সম্ভব। এরপর দুই সপ্তাহের মধ্যে শুনানি শেষ হলে মামলাটি আপিল বিভাগে যাবে। সব মিলিয়ে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “প্রত্যেকটি মামলাকে ফাস্ট ট্র্যাকে নেওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা একটি বাস্তবসম্মত পথ খুঁজছি, যাতে এই মামলাটি যত দ্রুত সম্ভব এগিয়ে নেওয়া যায়।”

আইনমন্ত্রী দাবি করেন, কার্যত ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসার মতো একটি মর্মান্তিক ঘটনার বিচার সম্পন্ন করা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। তিনি বলেন, “আমাদের উপমহাদেশের ইতিহাসে ১৮৮২ সালে নদীয়ার একটি ঘটনায় একদিনে বিচার সম্পন্ন হয়েছিল। এরপর এত দ্রুত বিচার আর হয়নি। আমরা আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন করেছি। ঘোষিত শাস্তিতে আমরা আপাতত সন্তুষ্ট এবং আশা করি উচ্চ আদালতেও এ রায় বহাল থাকবে।”

এর আগে বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সোহেলকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছর বয়সী রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই বাসার ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর সোহেল রানা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার তদন্ত শেষে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ২৪ মে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

ঈদুল আজহার ছুটির কারণে ১ জুন অভিযোগ গঠনের দিন নির্ধারণ করা হয়। ছুটি শেষে ওই দিন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

অভিযোগ গঠনের সময় সোহেল ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তিকে ঘটনার জন্য দায়ী করার চেষ্টা করেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পরদিন ২ জুন মামলার ১৭ সাক্ষীর মধ্যে রামিসার বাবা, মা, বোন ও স্বজনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

পরে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন দিন ধার্য করেন। বিচারিক আদালতগুলোতে অবকাশকালীন ছুটি চললেও মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করা হয়েছিল।

(ঢাকাটাইমস/৭ জুন/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
জ্ঞান-মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়তে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী
রায় ঘোষণার সময় অঝোরে কেঁদেছিলেন রামিসার বাবা হান্নান মোল্লা
অতিরিক্ত আইজিপি র‍্যাংক ব্যাচ পড়লেন রেজাউল করিম মল্লিক
হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৭৪৩৫ জন হাজি
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা