বগুড়ায় শিশু রিফাত অপহরণ ও হত্যা মামলায় পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড

বগুড়ার শাজাহানপুরে শিশু রিফাত হোসেনকে অপহরণের পর হত্যা এবং মরদেহ গুমের মামলায় পাঁচজন আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার আরও পাঁচজন আসামিকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার (২১ জুন) দুপুরে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. আনোয়ারুল হক এ রায় দেন। এ সময় মামলার ১০ আসামির মধ্যে আটজন কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন- শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস ভোলাগাড়ী গ্রামের আবুল কালাম আজাদ ও সাগর, খাদাস তালুকদারপাড়া গ্রামের সেলিম ইসলাম ও মেহেদী হাসান এবং খাদাস মাঠপাড়া গ্রামের রাজু ইসলাম ওরফে পাঁচফুল। তাদের মধ্যে সেলিম ইসলাম ও সাগর পলাতক। তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঘটনার সময় নাবালক ছিল এমন আরও পাঁচজনকে শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- সজিব হাসান, মফিজুল ইসলাম, জাহিদ হাসান, বোরহান আলী ও বায়েজিদ হোসেন। বর্তমানে তাদের বয়স ১৮ বছরের বেশি হওয়ায় জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিফাত হোসেন শাজাহানপুর উপজেলার খাদাস হাটখোলা এলাকার প্রবাসী এনামুল হকের ছেলে। আসামিরা সবাই রিফাতের পরিবারের প্রতিবেশী ও পরিচিতজন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলী আসগর বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে রিফাত নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তিন দিন পর পাশের পোয়ালগাছা গ্রামের ভদ্রাবতী সেতুর নিচে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা এনামুল হক শাজাহানপুর থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার বিচার চলাকালে এক আসামি মাসুদ রানা মারা যান। তার নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, এনামুল হক প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ তার কাছে বিভিন্ন সময় টাকা দাবি করতেন। ঘটনার দিনও তিনি এনামুলের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এনামুল টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই দিন বিকেলেই রিফাত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত রিফাতের বাবা এনামুল হক ও তার পরিবারের সদস্যরা।
পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি অনুমোদনের উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
(ঢাকাটাইমস/২১জুন/মোআ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































