মধ্যরাতে ভিডিও বার্তায় যা বললেন মোদি

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শুক্রবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিন চলমান বিক্ষোভ ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে এটি ছিল মোদির দ্বিতীয় বক্তব্য। এর আগে তিনি জড়িতদের দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
মধ্যরাতের ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য গভীর কষ্টের। তাই গত আড়াই মাসে সরকার এ বিষয়ে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।’
তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সেটিও সরকারের অন্যতম বড় দায়িত্ব ছিল। সে কারণে দ্রুত পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে এবং প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।
মোদি আরও জানান, বিশেষ দ্রুত বিচার আদালত গঠনের জন্য তিনি আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতেই সেই প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রিসভার মতামত পাওয়ার পর চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। আগামী সোমবার সংসদের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হলে এ-সংক্রান্ত বিল যত দ্রুত সম্ভব পাসের চেষ্টা করবে সরকার।
তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরও বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মূল দাবি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। তাদের প্রধান দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতেই কেন্দ্র সরকার উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করেছে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নরেশ কুমার গাঙ্গোয়ার। একই সঙ্গে টি. কে. অনিল কুমারকে স্কুল শিক্ষা সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, জনপরীক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন।
বৃহস্পতিবারও যন্তর মন্তরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের বেশিরভাগই ছিলেন তরুণ-তরুণী। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত, বেকারত্ব সমস্যা সমাধান, কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পর্দাভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির কথিত অনিয়মের তদন্ত এবং সরকারি পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার।
গত ৬ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন ২৮ জুন নতুন গতি পায়, যখন লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে যোগ দেন।
সূত্র: এনডিটিভি
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































