মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, শুক্রবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ জনতা পার্টির

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ভারতজুড়ে পুলিশি সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়াতে এবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির আহ্বান জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংগঠনটি আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেশের সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানায়।
এক্সের ওই বার্তায় আয়োজকদের উদ্দেশে বলা হয়, প্রতিটি সমাবেশের সম্মুখভাগ থেকে শিক্ষার্থীদের মূল দাবিগুলো যেন স্পষ্টভাবে পড়ে শোনানো হয়।
একই সঙ্গে কর্মসূচির সার্বিক অনুমতি ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো সহজ করতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সিজেপির এই বিক্ষোভের ডাক এমন এক সময়ে এলো যখন প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
ভারতে চলমান আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা আন্দোলনস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে এসে আলোচনা করবেন, অথবা কোনো নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকের আয়োজন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপি নেতাদের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানান। তবে দলটির নেতারা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনে উত্তাল হয়ে পড়ে দিল্লি।
সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, মানুষ ক্ষুব্ধ থাকায় তারা যন্তর মন্তরে আসতে পারবেন না। আমরা বলছি, আমাদের সময় নষ্ট করবেন না।
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আন্দোলনরত তরুণ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চলমান আন্দোলনের বিষয়টি সরকারের কাছে মর্যাদার কোনো বিষয় নয়। তিনি জানান, জে.পি. নাড্ডা ও তিনি যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং এ জন্য কোনো সময়সীমার বাধ্যবাধকতা নেই।
তবে সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন না। তাদের দাবি, বৈঠক হলে তা অবশ্যই নিরপেক্ষ কোনো স্থানে হতে হবে।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অসুস্থ হয়ে সাময়িক বিশ্রামে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি জানান, কিছু সময়ের জন্য তিনি আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকবেন, তবে সন্ধ্যার মধ্যে আবারও যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে ফিরে আসবেন।
অভিজিৎ দীপকসহ বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এর আগে বুধবার রাতে দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেছিল।
তবে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন। অভিজিৎ দীপকও পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেছেন, আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে।
সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













































