আশুলিয়ায় দম্পতি ও নবজাতক হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

ঢাকা টাইমস ডেস্ক
  প্রকাশিত : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৯
অ- অ+

ঢাকার আশুলিয়ায় পূর্বপরিচিত সম্পর্কের জেরে বিরোধের সূত্র ধরে এক দম্পতি ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয় (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।

পুলিশ সুপার জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার হযরত আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পরে আশুলিয়া থানা–পুলিশ তালাবদ্ধ কক্ষের দরজা খুলে ভেতরে এক পুরুষ, এক নারী ও একটি নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পায়।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন আলমগীর কবির (৪৫), তাঁর স্ত্রী নাজমা খাতুন (৩৯) এবং তাঁদের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান। আলমগীরের বাড়ি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায়। নাজমার বাড়িও একই উপজেলার বড় মাগুরা এলাকায়।

এ ঘটনায় নাজমার বড় বোন শাপলা বেগম বাদী হয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর আশুলিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পিবিআই জানায়, ঘটনার পর থেকেই ঢাকা জেলা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৮ সেপ্টেম্বর স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকা থেকে মনিরুজ্জামান ওরফে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, হৃদয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ভাড়া বাসা থেকে নিহত নাজমার ব্যবহৃত অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও পার্স উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, তদন্তে জানা গেছে, আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। হৃদয় তরকারির ব্যবসা করতেন। আলমগীরকে বিয়ের আগে নাজমার সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আলমগীরের সঙ্গে হৃদয়ের বিরোধ তৈরি হয়।

তদন্ত ও আদালতে দেওয়া হৃদয়ের জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ঘটনার দিন নাজমা ও আলমগীর হৃদয়ের বাসায় গিয়ে তাঁকে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসেন। সেখানে পুরোনো সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে নাজমা হৃদয়কে ঝাঁটা দিয়ে আঘাত করেন।

পিবিআইয়ের দাবি, পরে হৃদয়ও তাঁদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তাঁর ধাক্কা ও লাথিতে নাজমা পড়ে যান। এতে নাজমা ও তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন হৃদয়।

এরপর আলমগীর খুন্তি ও পাইপ দিয়ে হৃদয়কে আঘাত করলে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে হৃদয় গামছা দিয়ে আলমগীরের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।

পিবিআই জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর তিনজনের মরদেহ খাটের ওপর রেখে হৃদয় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। যাওয়ার সময় তিনি নাজমার ব্যবহৃত মুঠোফোন, সিম, অফিসের পরিচয়পত্র ও পার্স নিয়ে যান।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, হৃদয়ের বিরুদ্ধে এর আগে একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে আশুলিয়া থানায় করা ওই মামলায় ২০২৩ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই রহস্য উদঘাটনে ছায়া তদন্ত শুরু করা হয়। ভুক্তভোগীদের পূর্বপরিচিত ব্যক্তি, সম্পর্ক ও চলাফেরা যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে আসামিকে গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
Error!: SQLSTATE[42000]: Syntax error or access violation: 1064 You have an error in your SQL syntax; check the manual that corresponds to your MySQL server version for the right syntax to use near ') ORDER BY entry_time DESC,id DESC LIMIT 4' at line 4