মানসম্মত পাঠ্যবই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনায় তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই প্রণয়ন এবং গবেষণা, একাডেমিক ও অনুবাদধর্মী প্রকাশনা কার্যক্রম জোরদার করতে বাংলা একাডেমি, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) ও দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
আজ বুধবার ঢাকায় পৃথক তিনটি অনুষ্ঠানে এসব সমঝোতা স্মারক সই হয়।
দুপুরে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালকের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম সমঝোতা স্মারকে সই করেন।
এর আগে রাজধানীর ফার্মগেটের আর এইচ হোম সেন্টারে ইউপিএলের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক আমানুল্লাহ এবং ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দীন সই করেন।
তৃতীয় সমঝোতা স্মারকটি সই হয় রাজধানীর সার্কিট হাউস রোডে পিআইবি কার্যালয়ে। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক আমানুল্লাহ এবং পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ সই করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, এসব সমঝোতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের একাডেমিক ও গবেষণাকর্ম বই আকারে প্রকাশের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমির সাহিত্য, ভাষা ও গবেষণাভিত্তিক প্রকাশনা-অভিজ্ঞতা, পিআইবির সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমবিষয়ক প্রকাশনা দক্ষতা এবং ইউপিএলের একাডেমিক প্রকাশনা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন বই ও গবেষণাধর্মী প্রকাশনা তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই প্রকাশের পাশাপাশি গবেষণা, অনুবাদ, জ্ঞানচর্চা ও একাডেমিক প্রকাশনার পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত জ্ঞানভিত্তিক উপকরণ পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-গবেষকদের গবেষণাকর্ম প্রকাশের সুযোগ বাড়বে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৪ হাজার কোর্স চালু থাকলেও মানসম্মত মূল পাঠ্যবইয়ের সংকট রয়েছে। এমনকি ১০টি ভালো মৌলিক পাঠ্যবই খুঁজে পাওয়াও কঠিন।
তিনি বলেন, প্রতিটি কোর্সের জন্য একটি করে পাঠ্যবই প্রকাশ করা হলে প্রায় ৪ হাজার বই প্রকাশ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট শিক্ষণপদ্ধতিও গড়ে ওঠেনি।
উপাচার্যের ভাষ্য, বাজারে নিম্নমানের গাইড বইয়ের ছড়াছড়ি থাকায় শিক্ষার্থীরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় মূল পাঠ্যবই থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজেই মানসম্মত মৌলিক পাঠ্যবই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের ওপর নির্ভর করে না। মানসম্মত পাঠ্যবই, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক প্রকাশনাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলা একাডেমি, পিআইবি ও ইউপিএলের সঙ্গে সহযোগিতা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করবে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা ও বিপণন দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফারুক আহম্মেদসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













