ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে ৩ মাসের বিশেষ পরিকল্পনা, অবৈধ দখল উচ্ছেদের নির্দেশ

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশা নিধন ও একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ঘোষণা করেছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) কার্যালয় সড়ক হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল, পাকা বা সেমিপাকা ভবন ও অবৈধ পার্কিং অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
জেলা প্রশাসক বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পিরোজপুর বিনির্মাণে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে যুক্ত করে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা ও গণপূর্ত বিভাগের চারপাশ হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত পথ স্বশরীরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ড্রেন ও জমে থাকা নোংরা পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেন এবং ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দোকানগুলোর যত্রতত্র সাইনবোর্ড বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারি জায়গায় যদি বিল্ডিং বা সেমিপাকা ভবন এক ইঞ্চিও থাকে, তবে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের এক ইঞ্চি জায়গাও কারও অবৈধ দখলে রাখতে দেওয়া হবে না। অতিদ্রুত পরিমাপ করে ফুটপাত ও রাস্তার পাশের এসব পাকা ও সেমিপাকা ভবন, অবৈধ দোকানপাট, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ এবং যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”শহরের পরিবেশ রক্ষা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, “একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে জনগণের সচেতনতা জরুরি। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখুন। আর সরকারি জায়গায় বা রাস্তার পাশে কারও কোনো বিল্ডিং, সেমিপাকা দোকান বা অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।”
পরিদর্শন ও তদারকিকালে পিরোজপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।(ঢাকা টাইমস/২৬সেপ্টেম্বর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন











