নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী: সাইফুল হক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতী ও অদূরদর্শী’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বন্দর লিজের সিদ্ধান্ত, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জননিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সাইফুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল, লালদিয়া ও পানগাঁও বন্দরসহ লাভজনক সরকারি স্থাপনা বিদেশি কোম্পানির কাছে লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেসরকারি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে সরকার যে বিনিয়োগ ও আর্থিক লাভের যুক্তি দিচ্ছে, তা তথ্যভিত্তিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে সাইফুল হক বলেন, নিজেদের ব্যবস্থাপনায়ও বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত ও গতিশীল করা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘মাথাব্যথার জন্য আমরা নিশ্চয় মাথা কেটে ফেলতে পারি না।’ লোকসান ও ভর্তুকির যুক্তিতে দেশের জ্বালানি খাতও বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, ৫৪ বছরেও যদি একটি রাষ্ট্র তার প্রধান বন্দর পরিচালনায় স্বাবলম্বী হতে না পারে, তাহলে দেশ বা সরকার কীভাবে চলবে? দেশের সম্পদ ও সার্বভৌমত্বের স্বার্থে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও জননিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাইফুল হক। তিনি বলেন, বাজার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও দুর্বৃত্তদের কঠোরভাবে দমন করতে হবে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে আয়ের সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, অপরাধী ও দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মব সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং দখলদারত্ব বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকারকে মানুষ যৌক্তিক সময় দেবে, তবে তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের দ্রুত যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মতো লাভজনক ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারের সরে আসা উচিত। এ ধরনের পদক্ষেপ জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। গণশুনানি ছাড়াই জ্বালানির দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে চাঁদাবাজি, জবরদখল, সন্ত্রাস ও মাদকের দৌরাত্ম্যে জনজীবনে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান বলেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব উপেক্ষা করে বন্দর ও কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হতে দেওয়া হবে না। দেশের সম্পদ রক্ষা ও জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাকের সভাপতিত্বে এবং মীর রেজাউল আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাশিদা আক্তার, সাইফুর রেজা মামুন, সাইফুল ইসলাম ও বিপ্লবী রিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপতি জামাল সিকদার।
সমাবেশে পার্টির মহানগর কমিটির নেতা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, জামিলুর রহমান ডালিম, ঢাকা মহানগর বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক তুহিন রহমান ও সদস্যসচিব মো. ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সেগুনবাগিচায় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












