‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন’, সরাইল থানার ওসিকে রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:১৮
অ- অ+

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে ’আওয়ামী লীগের চোর’ ওসি আখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ওসির অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাতে থানায় গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি ও বিভিন্ন ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন রুমিন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য। থানায় তার সঙ্গে ওসির কথোপকথনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাল ভিডিওতে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে তা পাননি। তার দাবি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

রুমিন বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। ওইটা আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তার লোকজন ফোন করলেও ওসি ফোন ধরেন না। নিরাপত্তা না পাওয়ায় সাধারণ মানুষই তাকে ঘিরে রাখছেন। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘তো এ জন্যই মানুষ যা দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’ এছাড়া ওই ওসিকে ’আওয়ামী লীগের চোর’ ও বিরাট আওয়ামী লীগ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়ার অভিযোগও করেন রুমিন। তার অভিযোগ, সরাইল দাঙ্গাপ্রবণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও কোনো ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসব বিষয়ে কথা বলতেই তিনি থানায় গিয়েছিলেন।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

রুমিন ফারহানার অভিযোগের বিষয়ে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য এক থেকে দেড় শ লোক নিয়ে থানায় এসে হইচই করেন। তার কার্যালয়ে কয়েক শ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেন।

ওসি বলেন, উনি কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না।

আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, তিনি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া কারও দাওয়াতে যান না। সরকারি অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত থাকলে তিনি সেখানে যান বলে জানান।

মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না।’

ইটভাটা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’

দুর্গাপূজায় পুলিশের নিরাপত্তাব্যবস্থার কথা তুলে ধরে ওসি বলেন, থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা।

ওসির ভাষ্য, এ জন্য রুমিন ফারহানা পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে একটি পুলিশ দল নিয়োজিত রাখা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না বলেও জানান তিনি।

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
হত্যাসহ সাত মামলার আসামি কিশোর গ্যাং নেতা কেন্তা ফিরোজ গ্রেপ্তার
মোহাম্মদপুরে কুখ্যাত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সদস্য দিদার গ্রেপ্তার
সৌদিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আরও ২০ বাংলাদেশির সাজা নিয়ে ধোঁয়াশা
কক্সবাজারে সৈকতে সর্বশেষ নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু বেড়ে ৫