নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত:
ছয় দিনে শতাধিক মণ্ডপ পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারকিতে ছয় দিনে ঢাকা রেঞ্জের বিভিন্ন জেলার শতাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান। ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি।
বুধবার সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা রেঞ্জের ১৩ জেলায় ৭ হাজার ৬২১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯ হাজার ৬৫৩ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পূজামণ্ডপগুলোকে তিন শ্রেণিতে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১ হাজার ৩৯৯টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ, ২ হাজার ৪৪০টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৩ হাজার ৭৮২টি সাধারণ পূজামণ্ডপ হিসেবে চিহ্নিত ছিল।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ঢাকা রেঞ্জে পূজামণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ২৫২টি। চলতি বছর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬২১টিতে। এক বছরের ব্যবধানে পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৩৬৯টি, যা প্রায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
পূজার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা ৯ হাজার ৬৫৩ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে ৪৬৭ জন সাদাপোশাকে এবং ৯ হাজার ১৮৬ জন পোশাকে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া আট প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং পাঁচ প্লাটুন রিজার্ভ ফোর্সের সদস্যদেরও দায়িত্বে রাখা হয়।
ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণ, গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা ঠেকাতে সাইবার নজরদারি চালানো হয়।
পূজামণ্ডপে নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইভ টিজিং ও মাদক সেবন প্রতিরোধ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিকাণ্ডসহ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ব্যবস্থাও ছিল নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত রুট অনুসরণ, বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলো এবং ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স ও নৌ পুলিশের প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি রেঞ্জ ডিআইজি ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করেন। পূজা উদ্যাপন কমিটি, বিভিন্ন ধর্মের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতিতে এবারের দুর্গাপূজার পরিবেশ আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ।
(ঢাকা টাইমস/২২অক্টোবর/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













