২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর লক্ষ্য সরকারের

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জনাব ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, এ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত বিরতিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যাতে তিস্তা নদী ও তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা যায়।
বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটে ‘তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা এবং তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নোঙর ট্রাস্ট আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (ওয়ারপো)।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে। সমীক্ষার ফলাফল, কারিগরি দিক এবং এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ে উপযোগী প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এমন পদ্ধতি ও প্রযুক্তি নির্বাচন করা হবে, যা তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি কল্যাণকর হবে। এ জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, অববাহিকাভিত্তিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি ও জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশ এবং নদীভাঙন ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ কমাতে এ মহাপরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এবং অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মুহঃ রাশেদুল হক প্রধান এবং লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব এ কে এম মিনহাজুল হক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানি সম্পদ প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জনাব সুমন শামস।
মতবিনিময় সভায় তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনা, নদী ও তীরবর্তী জনপদের সুরক্ষা এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন করেন।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












